অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

র‍্যাব কিছু কাজ উল্টাপাল্টা করেছে, এখন অনেক ম্যাচিউরড: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন যে র‌্যাব এখন অনেক ম্যাচিউরড এবং এর জবাবদিহিতা অনেক বেড়েছে। র‌্যাব এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তিনি বলেন, “র‌্যাব এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সে সময় র‌্যাবও কিছু কাজ উল্টাপাল্টা করেছে। তবে র‌্যাব এখন অনেক ম্যাচিউরড। র‌্যাবের জবাবদিহিতা অনেক বেড়েছে।” মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব সদস্যের ফাঁসির কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২৭০ জনের মতো র‌্যাব সদস্যের চাকরিতে পদাবনতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফর নিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, “ডোনাল্ড লু বাংলাদেশে এসেছিলেন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত ও দৃঢ় করতে। যেসব কাজে এ সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে, তিনি সে চেষ্টা করেছেন।”

ড. মোমেন আরও বলেন, “আমরা তাদের বলেছি যে আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। তিনিও তাদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন। বলা যায় আমরা একই পর্যায়ে আছি। আমাদের মধ্যে খুব ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের ওপর সন্তুষ্ট, আর আমরাও তাদের ওপর সন্তুষ্ট।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন চান যে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ক যেন আরও উন্নত হয়। আর আমরা এখন একটা বড় অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছি। আমরা এখন বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি। তাই তারা আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়।”

আমেরিকা ও বাংলাদেশের মূল্যবোধ ও মূলনীতি অভিন্ন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। বলেন, “তারা গণতন্ত্র চায়, আমরাও গণতন্ত্র চাই। আমরা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছি। তারাও মানুষের অধিকার চায়, আমরাও চাই। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়, তা অনেক বড় কিছু নয়। আমরা তাদের জানিয়েছি, যদি আপনাদের কোনো সমস্যা থাকে, আপনারা আমাকে জানান। আমি মনে করি ডোনাল্ড লু এর এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা তাদের প্রতি ও পিটার হাসের প্রতি সন্তুষ্ট।”

রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিষয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, “অর্থনীতির বিষয়ে তিনি একজন বিশেষজ্ঞ। আমাদের মূল ককাস হলো-অর্থনৈতিক মুক্তি চাই। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সাহায্য করতে পারেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস দমনে আমরা বিশ্বে প্রথম। আমরা এ ব্যাপারে খুব সফল। ২০১৭ সালের পর থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে খুব কঠোর, আমরাও খুব কঠোর। বলা চলে এক্ষেত্রে আমাদের মনোভাব একই।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, “না, এখনও কোনো সুপারিশ আসেনি। তবে আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো দূর করার চেষ্টা করছি। লেবার ইউনিয়ন নিয়ে আমাদের সমস্যা আছে। এ বিষয়টার ওপর আমাদের কাজ করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‌্যাব

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

XS
SM
MD
LG