কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ধামংখালীর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘১৭ জানুয়ারি বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপি থেকে আনুমানিক ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে এবং সীমান্ত পিলার-২০ থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ উত্তর-পূর্ব কোণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রহমতের বিল হাজীর বাড়ী নামক এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল নিকটবর্তী স্থানে টহলরত থাকা অবস্থায় দ্রুত সংঘর্ষ এলাকায় যায়। বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। এ অবস্থায় বিজিবির টহল দল তাদের জানমাল ও সরকারী সম্পদ রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বালুখালী বিওপি থেকে বিজিবির আরেকটি দল অতি দ্রুত ওই টহল দলের সঙ্গে যোগ দেয়। একই সময় পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম বিওপি থেকেও আরও একটি দল পিকআপ যোগে অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে বিজিবির শক্তি বৃদ্ধি করে। বিজিবির তড়িৎ এবং সুসংহত তৎপরতায় ইয়াবা সন্ত্রাসীরা মিুয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়’।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় বিজিবি টহলদলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো সদস্য আহত বা নিহত হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। বর্তমানে সকল বিওপিসমূহ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি টহল এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইলে সীমান্তে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এ সময় অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বিজিবির টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। তখন বিজিবির সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। এরপর অস্ত্রধারীরা মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।’