অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে সক্রিয়বাদীরা রুদ্ধবাক, বিদেশে প্রতিবাদ অব্যাহত

তালিবান শাসনের অধীনে মেয়েদের জন্য উচ্চ শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে অধিকার কর্মীরা৷ ১ জানুয়ারী, ২০২৩।
তালিবান শাসনের অধীনে মেয়েদের জন্য উচ্চ শিক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে অধিকার কর্মীরা৷ ১ জানুয়ারী, ২০২৩।

হোয়াইট হাউজের সামনের লাফায়েত পার্ক থেকে লন্ডন, টরন্টো এবং বিশ্বের অন্যান্য অনেক শহরের রাস্তায়, আফগানিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে তালিবানের দমনমূলক নীতির নিন্দা করতে এবং একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানাতে ছোট ছোট বিক্ষোভ করছেন অধিকার কর্মীরা।

যদিও তারা তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যক অংশগ্রহণকারীদের আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছেন, তবুও গত এক বছর ধরে বিক্ষোভগুলির তীব্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নারীদের উপর তালিবানের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তাদের এই বিক্ষোভ।

১৪ জানুয়ারী, ওয়াশিংটনের ফ্যারাগাট স্কয়ার পার্কে ১০০ জনেরও কম বিক্ষোভকারী তালিবানের সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের নিষিদ্ধ করার এবং আফগান মেয়ে ও নারীদের কাজ বন্ধ করে দেয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই দিনে, প্রায় তিন ডজন বিক্ষোভকারী একই রকম দাবি জানাতে, তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে লস অ্যাঞ্জেলেসে জড়ো হয়েছিলেন।

আফগান আমেরিকান কমিউনিটি সংগঠক আরাশ আজিজাদা ভিওএ-কে বলেন, "লস অ্যাঞ্জেলেসে, আমরা তালিবান সরকারের দ্বারা লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি।"

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে নারী ও সুশীল সমাজের কর্মীরা তালিবান শাসনের অধীনে নীরব থাকার কারণে এই বিক্ষোভগুলি অনুষ্ঠিত হয়।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি তালিবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, কর্মীদের আটক ও নির্যাতন এবং মিডিয়াকে সেন্সর করার অভিযোগ এনেছে। তবে, তালিবান দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো দাবি করছে, তারা আমেরিকান আগ্রাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে।

আফগানিস্তানের বাইরের বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা আফগান নারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন, তালিবানের অগণতান্ত্রিক শাসনে যাদের অধিকার দমন করা হচ্ছে।

“আমরা তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। আমরা বিশ্বের কাছে তাদের প্রতিনিধি হতে চাই,” বলেছেন সাবেক আফগান কূটনীতিক এবং বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফেলো আসিলা ওয়ার্দাক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

আফগান বিক্ষোভকারীরা একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক সমস্বরের অংশ, যারা তালিবানকে অবিলম্বে আফগানিস্তানে নারীদের কাজ এবং শিক্ষার উপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার দাবি জানায়।

তবে তালিবান এই বিক্ষোভের বিরোধিতা করে আসছে। কখন কিংবা আদৌ এগুলো প্রত্যাহার করা হবে কীনা সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি তারা।

সাবেক আফগান কর্মকর্তা, জারিফা গাফারি যিনি বর্তমানে জার্মানি থেকে আফগান নারীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলছেন, ভিওএ-কে বলেছেন, "আমি বিশ্বাস করি যে বিক্ষোভ পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু আফগানদের বিক্ষিপ্ত সমাবেশে আমার তেমন কোনও আস্থা নেই, কারণ, আপনি গত দেড় বছরে কোনো ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাননি।"

তালিবান কর্মকর্তারা বিদেশের মাটিতে আফগান বিক্ষোভকে প্রধানত উপেক্ষা করছেন এবং বিক্ষোভকারীদের পশ্চিমা পুতুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তবে, সর্ব সাম্প্রতিক পিউ সমীক্ষা অনুসারে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে, প্রায় সমস্ত আফগানই তাদের জীবনকে ভয়াবহ "দুর্ভোগ" হিসাবে মূল্যায়ন করেছেন। বেশিরভাগই বলেছেন, তালিবানের অধীনে নারীদের চরম অসম্মান করা হচ্ছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG