অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমাধান খুঁজছেন আফগান সাংবাদিকরা


আফগান সাংবাদিকরা আফগানিস্তানের কাবুলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের একটি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২। ফাইল ছবি।

সাংবাদিকরা বলছেন, নারীরা কোথায় কাজ করতে পারবেন সে সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের নিয়ম থেকে শুরু করে আফগানিস্তানে সংবাদ পরিবেশনের বিধিমালার কারণে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্বাধীন গণমাধ্যম গোষ্ঠী সালাম ওয়াটান্ডার নেটওয়ার্কের জন্য নিরাপত্তা এবং রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদনকারী দাউদ মুবারক ওগলু বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ব্যাপারটি “গত বছরে বেড়েছে।”

ওগলু ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, তার প্রতিবেদনের যে বিষয় তা নিয়ে কাজ করা কঠিন কারণ তালিবান “সাংবাদিকদেরকে বিস্ফোরণ এবং আত্মঘাতী হামলার মতো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে দেয় না।”

২০২১ সালের আগস্টে তালিবান যখন ক্ষমতা দখল করে তখন তারা বলেছিল, গণমাধ্যম “মুক্ত এবং স্বাধীন” থাকবে।

কিন্তু এক মাস পরে গণমাধ্যমের জন্য নতুন নিয়ম আরোপ করা হয় যাকে নজরদারী গোষ্ঠী বলা হয় এবং সাংবাদিকরা সেন্সরশিপ বলে অভিহিত করছেন।

উপরন্তু জাতিসংঘ ২০২২ সালে আফগানিস্তানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ২০০ টির বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, দুর্ব্যবহার, হুমকি এবং ভীতি প্রদর্শন।

বেশ কয়েকটি রেডিও এবং টিভি স্টেশন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ৬ হাজারের বেশি সাংবাদিক আর কাজ করতে পারছেন না।

কাবুলের মরিয়ম হোতাকের মতো কেউ কেউ সাংবাদিক এবং নারী হওয়ায় দ্বিগুণ চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি বলেন, নারীদের ওপর তালিবানের আরোপিত বিধিনিষেধ ইতোমধ্যেই তাদের কাজ করা কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, মাহরাম অর্থাৎ ঘনিষ্ঠ পুরুষ আত্মীয় ছাড়া নারীদেরকে সরকারি ভবনে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।

তালিবান আফগানিস্তানে নারীদের ওপর দমনমূলক ব্যবস্থা আরোপ করেছে। এর মধ্যে তাদের চাকরি, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা এবং সঙ্গী ছাড়া দূর-দূরান্তের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তালিবানকে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে তারা ভয়েস অফ আমেরিকার অনুরোধের কোনো উত্তর দেয়নি।

এই প্রতিবেদন ভয়েস অফ আমেরিকার আফগান বিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে।

XS
SM
MD
LG