অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর তানজানিয়ায় বিরোধী দলের প্রথম সমাবেশ


তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী দল চাদেমার সমর্থকরা ২০১৬ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আয়োজিত প্রথম সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন (২১ জানুয়ারি, ২০২৩)

২০১৬ সালে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর, তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী দল শনিবার প্রথম সমাবেশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে এমন আশার সঞ্চার হয়েছে যে, পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে সরকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চাদেমা পার্টির যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক পরিচালক জন ম্রেমা উল্লাসরত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “গত সাত বছর রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকার পর এমন আয়োজন সহজ ছিল না”।

চাদেমার হাজার হাজার সমর্থক দলটির নীল, লাল ও সাদা রঙের কাপড়ে সজ্জিত হয়ে, হ্রদের তীরে অবস্থিত মাওয়ানজা শহরের ফুরাহিশা মাঠে সমবেত হন।

প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান এ মাসে তার কট্টরপন্থী পূর্বসূরি জন মাগুফুলির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। মাগুফুলিকে তার আপোসহীন নেতৃত্বের ধরণের জন্য “বুলডোজার” নামে ডাকা হত।

প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ২২ মাস ধরে ক্ষমতায় আছেন। তার ক্ষমতায় আসার পর সরকারের মূলনীতি বদলেছে।তিনি চাইছেন মাগুফুলির কিছু নীতিতে পরিবর্তন আনতে।

সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের জন্য অর্জন হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংগঠন ও দেশের বিরোধী দলগুলো এবং তারা একে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে।

মাগুফুলি তার শাসনামলের শুরুর দিকে রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে এখন কাজের সময়, রাজনীতি করার সময় নয়।

তবে সমালোচকরা বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বিরোধী দলের ওপর প্রযোজ্য ছিল। ক্ষমতাসীন দল তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী সমাবেশ করতে পারতো। বিরোধীরা সমাবেশ করার চেষ্টা করলে পুলিশ সহিংসভাবে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিতো এবং নেতা-কর্মীদের কারাগারে পাঠাতো।

চাদেমার কর্মকর্তারা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বেশ কিছু সমাবেশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চাদেমার নারী সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন শারিফা সুলেইমান বলেন,“আমরা দেশের সব ওয়ার্ড ও গ্রামে সমাবেশ করার চেষ্টা করবো।”

তিনি বলেন, “২০২৫ সালের নির্বাচনের জন্য ভিত্তি স্থাপনের এখনই সময়।”

অপর কর্মকর্তা হাশিম জুমা ইসা বলেন, ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে তাদের দল “নতুন অধ্যায়ের সূচনা” করতে যাচ্ছে।

XS
SM
MD
LG