অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জলবায়ু ক্ষতি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদার করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি সহযোগিতা জোরদার করতে, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে, প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় ৮ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। মহামারীর কারণে তা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ যখন প্রবৃদ্ধির গতি পুনরুদ্ধার করছিল, তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আবারও আঘাত হানে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সহ অর্থনৈতিক পতনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সবুজ বলয়, বনায়ন, টেকসই আবাসন এবং জীবিকা তৈরির মাধ্যমে বিরূপ প্রভাব প্রশমিত করার জন্য, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার সরকারের পদক্ষেপ এবং প্রচেষ্টার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন; জানান নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। দুর্ভাগ্যবশত, তারা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি পালন করছে না।”

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার প্রশংসা করেন।বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল ১৯৭২ সালে ৫০ ডলার, যা এখন ২৮২৪ ডলার। নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। কেননা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রয়োজন।”

অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, “বিশ্বব্যাংক ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করে আসছে এবং বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্ব জোরদার করতে আমি এখানে এসেছি।”

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

XS
SM
MD
LG