অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ডাকার শীর্ষ সম্মেলনে আফ্রিকান নেতৃবৃন্দ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন


ফাইল – ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, গিনির কাটিয়ার কাছে একটি গ্রামের কৃষকরা ফনিও শস্য ক্ষেতে
ফাইল – ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, গিনির কাটিয়ার কাছে একটি গ্রামের কৃষকরা ফনিও শস্য ক্ষেতে

সেনেগালে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানরা ও উন্নয়ন বিষয়ক অংশীদাররা আফ্রিকার কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবগুলি এই সবকিছু একত্রে আফ্রিকার বেশিরভাগ অংশজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সর্বসম্মত বিষয়হচ্ছে আফ্রিকার খাদ্য আমদানির উপর নির্ভরতা শেষ করার সময় এসেছে।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যারা এই শীর্ষসম্মেলনের আয়োজক তাদের মতে, এই মহাদেশের ৯’শ কোটি মানুষকে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত আবাদী জমি রয়েছে। কিন্তু এ স্বত্বেও প্রতি বছর আফ্রিকা ১০ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্য আমদানি করতে সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আকিনউমি আদেসিনা বলেন, “কেবলমাত্র একটি সুরক্ষিত মহাদেশই গর্বের সঙ্গে বিকশিত হতে পারে । কারণ খাবারের জন্য ভিক্ষা করায় কোনও গৌরব নেই। এটাই সঠিক সময”। তিনি বলেন, “আর সেই মুহুর্ত্বটাই এখন।আমার প্রাণ এবং আমার সংকল্প হল যে আফ্রিকা নিজেদের উৎপন্ন খাদ্য খাবে।”

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২৮কোটি ২০লক্ষ আফ্রিকান ক্ষুধায় ভুগছে এবং ক্রমাগত খরা আফ্রিকাশৃঙ্গের এবং মাদাগাস্কারের মতো কিছু অঞ্চলকে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যাঘাত ঘটার কারণে খাদ্য সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতে, আফ্রিকা সাধারণত যুদ্ধরত রাশিয়া এবং ইউক্রেনের থেকে ৩ কোটি মেট্রিক টন খাদ্য আমদানি করে থাকে এবং জ্বালানি, সার এবং খাদ্যের দামও ৪০ থেকে ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি বলেছেন, স্বাবলম্বী হতে হলে আফ্রিকার দেশগুলোকে অবশ্যই কৃষি উদ্যোগ ও গ্রামীণ অবকাঠামো খাতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সফল্য পেতে হলে কৃষকদের যে ভর্তুকি দিতে হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, “গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদেরকে অবশ্যই গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের হার হ্রাস করতে হবে।” তিনি বলেন, "ঘনঘন খরার মোকাবেলায় আমাদের অবশ্যই সেচের ক্ষেত্রে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে।

সুদানের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিটিসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আবদেলাতিফ বৃহস্পতিবার সিইওদের গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, কৃষি বীমার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

বিভিন্ন বক্তা মহাদেশের সাফল্যের ঘটনাবলী তুলে ধরেন। ইথিওপিয়া চার বছর সময়ের মাঝে তাপ প্রতিরোধী গমের উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৮লক্ষ হেক্টর বাড়িয়েছে এবং এখন তারা গম রপ্তানি করার পথে রয়েছে।

কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডায় খরা-প্রতিরোধী ভুট্টার ফলন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে।

ইউক্রেনের সংঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, জিম্বাবুয়ে তার দেশে সার এবং গম উত্পাদন শুরু করে। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া বলেছেন, আগামী বছর রপ্তানি শুরু করার জন্য দেশটি পর্যাপ্ত গম উত্পাদন করবে বলে আশা করছে।

এই সম্মেলন শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।

XS
SM
MD
LG