অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

খুলনা মহানগরীতে পুরাতন দুর্লভ সামগ্রী প্রদর্শনী

প্রদর্শনীতে, প্রাচীন মুদ্রা, যুদ্ধাস্ত্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে ব্যবহৃত বিষমিশ্রিত বেয়নেট, মোগল সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত ঢাল ও আঙুলের বর্ম, সপ্তদশ শতাব্দীতে রৌপ্য ও তামার সংমিশ্রণে হাতে তৈরি প্লেট, প্রাচীন পত্রিকাসহ শত শত দুর্লভ সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।
প্রদর্শনীতে, প্রাচীন মুদ্রা, যুদ্ধাস্ত্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে ব্যবহৃত বিষমিশ্রিত বেয়নেট, মোগল সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত ঢাল ও আঙুলের বর্ম, সপ্তদশ শতাব্দীতে রৌপ্য ও তামার সংমিশ্রণে হাতে তৈরি প্লেট, প্রাচীন পত্রিকাসহ শত শত দুর্লভ সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।

খুলনা মহানগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুরাতন দুর্লভ সামগ্রী প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে খুলনা কালেক্টরস সোসাইটি তিনদিনে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে, প্রাচীন মুদ্রা, যুদ্ধাস্ত্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানিতে ব্যবহৃত বিষমিশ্রিত বেয়নেট, মোগল সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত ঢাল ও আঙুলের বর্ম, সপ্তদশ শতাব্দীতে রৌপ্য ও তামার সংমিশ্রণে হাতে তৈরি প্লেট, সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবাহিনীর সাবমেরিনে ব্যবহৃত চাবি দেওয়া ঘড়ি, প্রাচীন পেপার, পত্রিকাসহ শত শত দুর্লভ সামগ্রী প্রদর্শিত হয়। শৌখিন সংগ্রাহকদের এই সামগ্রীগুলো পূর্বসূরিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঐতিহ্যিক দ্রব্য। সংগ্রাহকরা বলেন, “ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এমন আয়োজন করা হবে। প্রদর্শনীতে এসে মানুষের জ্ঞান ও শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে পারে।”

সংগ্রাহক ও নজরুল গবেষক সৈয়দ আলী হাকিম বলেন, “ইতিহাস ঐতিহ্যের অনেক স্মারক নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা। তাদের সামনে সেসব দুর্লভ সংগৃহীত বস্তু উপস্থাপন করতে এ আয়োজন করা হয়েছে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, “ইতিহাস ঐহিত্য সম্পর্কিত অনেক কিছুই অনেকে সংগ্রহ করতেন। জ্ঞান বৃদ্ধি করা যায় এমন কিছু সংগ্রহ করা হতো। এখন তো সবাই গেজেট আসক্ত। এর বাইরে যে জগত আছে, তাকে আবিষ্কার করতে হবে। আর, অন্য কিছু দিয়ে যে আনন্দ উপভোগ করা যায়, সেটা উপস্থাপন করার জন্যই এ প্রদর্শনীর আয়োজন। ভারত ও ইংল্যান্ডসহ দেশের মোট ৩১জন সংগ্রাহক তাদের সংগ্রহকৃত বস্তু প্রদর্শন করছেন এখানে।

প্রদর্শনীতে কয়েন, ব্যাংক নোট, কুপিবাতি, এন্টিক মূল্য আছে এমন অনেক দ্রব্যসহ প্রায় ১০ হাজারের বেশি দ্রব্য রয়েছে। আড়াই হাজার বছর পুরাতন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কয়েন আছে প্রদর্শনীতে। রয়েছে, শতবর্ষ প্রাচীন লাড্ডু গোপাল মূর্তি, গহনার বাক্স, পিতলের ইস্ত্রী, বেদেদের বাঁশি, প্রাচীন বাটখারা, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে প্রচলিত মুদ্রা ও ব্যাংক নোট।

আছে বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত অর্ধশতাধিক ডাকটিকিট, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য দেওয়া খেতাব ও মেডেল, পিতলের হুক্কা, পাথরের হুক্কা, মাটির হুক্কা, হরেক রকম ম্যাচবক্স, বিভিন্ন প্রকারের মেডেল, আদিবাসীদের গহনা, প্রাচীন আমলের কেটলি, রাজাকারদের বেতনের নথি, পানের বাটা, গোল্ড কয়েনসহ অনেক কিছু।

সংগ্রাহক এম এম হাসান জানান যে তার কাছে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের যত ডাক টিকিট আছে, সবই তার আছে আছে। শখের বসে তিনি এসব সংগ্রহ করেছেন। প্রদর্শনীতে তার সংগ্রহ করা ডাকটিকিট দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা।।

তিন দিনের এ প্রদর্শনী শেষ হয়েছে শনিবার (২৮ জানুয়ারি)।

This item is part of
XS
SM
MD
LG