বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেছেন, তুরস্ক বাংলাদেশের কাছ থেকে সহায়তার অংশ হিসেবে শীতবস্ত্র, ওষুধ ও অন্য উপকরণ চেয়েছে। তবে তারা নগদ সহায়তা পেতে আগ্রহী নন। বাংলাদেশ থেকে শীতবস্ত্র, ওষুধ ও অন্য উপকরণ পেতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তাঁর দেশ দুটি ভূমিকম্প এবং বহু আফটারশকের আঘাতের পর বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আরও জীবন বাঁচাতে আগামী এক–দুই দিন হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ”।
তিনি আরও “ভূমিকম্পে ৬ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।… বাংলাদেশের সহায়তা চাই আমরা”।
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটির দূতাবাসে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তুরস্কের ১০টি প্রদেশে ভূমিকম্প হয়েছে। ওই ভূমিকম্পে বাংলাদেশ সরকার দ্রুত সাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শোক বার্তা পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখেছে। রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, “এতে আমরা চির কৃতজ্ঞ”।
মোস্তফা ওসমান তুরান বলেন, “এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো নাগরিক আক্রান্ত হননি”।
তিনি জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত (সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত) ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোর একটিতে নিযুক্ত ছিলেন, তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার দ্রুত উদ্ধারের জন্য দোয়া চেয়ে ওসমান তুরান বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, তাঁর সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই”।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার গত সন্ধ্যায় একটি সামরিক বিমানের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সমস্ত সরকারি দপ্তরসমূহে পতাকা অর্ধনমিত রেখে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, “এটি একটি ঘটনা যা আমরা ভুলব না। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বাংলাদেশের জনগণের সমর্থন ও সংহতি রয়েছে”।