আরও বেশি সংখ্যক নারী ও মেয়েদের বিজ্ঞানে উৎকর্ষ লাভের সুযোগ দিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সবার মানসিকতা পরিবর্তন করতে এবং শিক্ষার পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায়েএক যোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ ফেব্রয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান সমাবেশে, অষ্টম আন্তর্জাতিক নারী ও বালিকা দিবসের অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বিবৃতিতে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, “এটি দুর্ভাগ্যজনক যে বিশ্বব্যাপী মাত্র ১২ শতাংশ নারী বিজ্ঞানী এবং ২০ শতাংশ নারী, গবেষকদের প্রতিনিধিত্ব করেন। আমাদের অবশ্যই মানসিকতা এবং শিক্ষার পরিবেশের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলা করার জন্য কাজ করতে হবে, যাতে আরও বেশি নারী ও মেয়েরা বিজ্ঞানে পারদর্শী হতে পারে।”
তিনি বলেন, “আজ আমরা সেই নারী ও মেয়েদের নিয়ে গৌরব করি, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।” শেখ হাসিনা নারী ও মেয়েদের নিজেদের পরিবর্তনের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নারী ও মেয়েদের মনে রাখতে হবে যে তারা একা নন। তারা যে পদক্ষেপগুলো নেন, তা তাদের সারা বিশ্বের বোনদের জন্য আরও দুয়ার (সুযোগ) উন্মুক্ত করতে সাহায্য করবে।”
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে আমি অগ্রাধিকার দিয়েছি। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের নারীরা খুব ভালো করছে। বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি; সব ক্ষেত্রে গবেষণা করার জন্য মেয়েদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মেয়েদের উৎসাহিত করার জন্য সারা বাংলাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকার ছেলে ও মেয়েদের জন্য সারা দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। হাই-টেক পার্কগুলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে ছেলেদের পাশাপাশি আমাদের মেয়েরাও উন্নতি করতে পারে।”
বিজ্ঞানের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার সম্ভাবনাপূর্ণ নারী ও মেয়েদের দেখতে চান বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তাদের জন্য থাকা সুযোগের অসামঞ্জস্যতা গুলো অবশ্যই আমাদের পূরণ করতে হবে। আমরা চাই আমাদের মেয়েরা স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ করুক।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশু দিবসে সকল নারী ও মেয়েদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। রয়্যাল একাডেমি অফ সায়েন্স ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট (আরএএসআইটি) এবং সহ-সংগঠক সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিজ্ঞানে নারী ও মেয়েদের আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন করেছে।