অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত


বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ ও কুমিরা স্টেশনের দুটি টিম। রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ ও কুমিরা স্টেশনের দুটি টিম। রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। রবিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে এ অভিযান শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ ও কুমিরা স্টেশনের দুটি টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।

আগ্রাবাদ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে যে বিস্ফোরণের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযানে নতুন কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

শনিবার বিকালের বিস্ফোরণের সময় সীমা অক্সিজেন (প্ল্যান্ট) লিমিটেড কারখানার আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে উঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কারণে আশে-পাশের অনেক বাড়ি-ঘর, অফিস-দোকান ও ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাঁচ ভেঙে যায়। এছাড়া কয়েকটি ভবনে-এ ফাটল দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন জানান, “বিস্ফোরণের পর চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে টিন ও লোহার টুকরা। আশপাশের অনেক ভবনের দেয়াল ফেটে গেছে। উড়ে গেছে টিনের চালা। ভেঙে গেছে ঘরের কাঁচ।”

ঘটনার সময় কারখানার বাইরে থাকা ইয়াসিন নামে এক শ্রমিক জানান, “আমি বিস্ফোরণের মাত্র ১০ মিনিট আগে ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়েছিলাম চা খেতে। অল্পের জন্য বেঁচে যাই। বিস্ফোরণের পর কারখানার আশপাশের অন্তত এক বর্গকিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। এমনকি বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে যায় লোহার পাত।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন, বিস্ফোরণে আহত ৫৫ বছর বয়সী আব্দুল মোতালেব। তিনি জানান, “আমাদের কারখানায় অক্সিজেন তৈরি করা হয়। তারপর ৮০ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে অক্সিজেন ভরা হয়। আমার ধারণা, সিলিন্ডারে অতিরিক্ত চাপের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে। প্ল্যান্টে এরকম ঘটনা আগে ঘটেনি।”

বিস্ফোরণে নিহত ছয় জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী।

বিস্ফোরণে আহতদের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়ে সাত হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আর, নিহতদেরর প্রতি পরিবারকে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আরো দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

XS
SM
MD
LG