অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সমীক্ষা: বাংলাদেশের ব্যবসায়িক আস্থা সূচক ৭৪.৪


বাংলাদেশ বিজনেস কনফিডেন্স সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক আস্থা সূচক (বিসিআই) ৭৪ দশমিক চারে এ দাঁড়িয়েছে। এটি পরবর্তী ছয় মাসের ব্যবসায়িক অবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দিকের ইঙ্গিত দেয়।

রবিবার (৫ মার্চ) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এবং ইউএসএআইডি-র অর্থায়নে, ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ট্রেড অ্যাক্টিভিটি যৌথভাবে ৫ম বিজনেস কনফিডেন্স সার্ভে রিপোর্ট ২০২২ প্রকাশ করে।

সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো নিশ্চিত যে আগামী ছয় মাসে উৎপাদন খাতের জন্য অর্ডারের পরিমাণ, পরিষেবা খাতে পরিষেবার চাহিদা, বিক্রয় মূল্য এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ বাড়বে।ফলস্বরূপ, ব্যবসাগুলো একই সময়ের মধ্যে তাদের কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রসারিত করতে ইচ্ছুক।

এছাড়া, ব্যবসায়িক সত্তা, বিশেষ করে উৎপাদন খাতের, খরচের প্রতি কম আস্থা রাখছে। এই মনোভাব বিদ্যুৎ,পানি, গ্যাস, ভাড়া এবং উপকরণের খরচসহ ব্যবসার খরচের বোঝা মোকাবেলায় অবিলম্বে পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

গত ছয় মাসে (মার্চ ২০২২- আগস্ট ২০২২) বিদ্যমান ব্যবসায়িক অবস্থা বিশ্লেষণ করতে এবং পরবর্তী ছয় মাসের জন্য (ডিসেম্বর ২০২২ –জুন ২০২৩) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে টার্নিং পয়েন্টের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ৫৬৭টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২২-এর মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। ঝুঁকি কমানোর জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে সক্ষম করা এই সমীক্ষার লক্ষ্য।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, “৫ম বিজনেস কনফিডেন্স জরিপ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ এতে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের সুপারিশকৃত সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক আস্থা জরিপের পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে।”

তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা জেনে আনন্দিত যে তা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক অবস্থার একটি আশাবাদী ধারণা দিয়েছে বিল্ড পরিচালিত সামগ্রিক ব্যবসায়িক আস্থা সূচক (বিসিআই)।”

জরিপের অন্যান্য স্কোরে, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং উদীয়মান ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসের কিছু দৃশ্যমান পুনরুদ্ধার প্রতিফলিত হয়েছে। দেখা গেছে, আগামী ছয় মাসে ব্যয়ের আস্থা ২২ দশমিক চার-এর মতো নিচে নেমে গেছে। সরকারকে অবশ্যই আর্থিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় এটিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, “বিসিআই-এর সাতটি উপাদানের মধ্যে ছয়টিতে; কর্মসংস্থান, সেবার চাহিদা, ব্যবসায়িক কার্যকলাপ, বিক্রয়মূল্য এবং বিনিয়োগের অনুভূতিতে; ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।”

তিনি বলেন, “সাতটি উপাদানের মধ্যে কেবলমাত্র সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় সূচকটি একটি হতাশাবাদী লক্ষণ প্রদান করে। এই গবেষণায় ৫০-কে মধ্যবিন্দু ধরা হয়েছে। এটি শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত বিস্তৃতি সূচক। ৫০ এর কম মানে সংকোচন বা কম আশাবাদ এবং ৫০ এর বেশি মানে সম্প্রসারণ বা আশাবাদ।”

মার্চ ২০২২ থেকে আগস্ট ২০২২ ছয়মাসে সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় সূচক ছিলো ৩৫ দশমিক আট। পরবর্তী ছয় মাসে (ডিসেম্বর ২০২২ - জুন ২০২৩) ২২ দশমিক চার -এ পৌঁছবে বলে ধারণা করা করা হচ্ছে। এই সমীক্ষায় প্রায় ৭২শতাংশ ব্যবসায়িক সংস্থা জানিয়েছে যে আগামী ছয় মাসে সামগ্রিক ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়বে।

বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপালের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হোল্টম্যান বলেছেন, “ব্যবসায়িক আস্থার সমীক্ষা হলো ব্যবসাগুলো কেমন চলছে তার সংক্ষিপ্ত সূচক। এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবসার অবস্থার একটি পৃথক পরিমাপ।”

তিনি বলেন, “বিসিএস হলো সকালের কয়েকটি চিহ্ন। আমরা আশা করি যে এই লক্ষণগুলো ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আমাদের প্রবণতাগুলো দেখতে হবে। আমাদের কণ্ঠস্বর হীনদের জন্য কথা বলতে হবে।”

ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সমীর সাত্তার বলেন, “বিজনেস কনফিডেন্স সার্ভে ২০২২-২৩ থেকে একটি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আস্থা এবং স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে। সরকারের বিবেচনা করা উচিত, এমন একটি প্রধান সুপারিশ হলো, ব্যবসা করার খরচ কমানো দরকার।”

তিনি আরো বলেন, “সিএমএসএমই একাধিক সমস্যায় রয়েছে৷ সিএমএসএমই এর জন্য অর্থ পাওয়া অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আমরা সিএমএসএমই বিভাগ থেকে মধ্যম আকারের প্রতিষ্ঠানকে সরানোর সুপারিশ করবো।”

XS
SM
MD
LG