অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেনে চীনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র


ফা্চইল ছবি: নের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের বেইজিংয়ে তাদের বৈঠকে একে অপরের সাথে কথা বলছেন। ( ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২)
ফা্চইল ছবি: নের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের বেইজিংয়ে তাদের বৈঠকে একে অপরের সাথে কথা বলছেন। ( ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২)

আগামী সপ্তাহে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সঙ্গে ফোনালাপের আগে হোয়াইট হাউজ ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পক্ষে বেইজিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুক্রবার ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়ক জন কার্বি বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন হব যদি এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। যুদ্ধবিরতি ভাল শোনালেও এটি প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার অর্জনকে সমর্থন করে।”

পুতিনের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শুক্রবার বলেন, শি'র সঙ্গে আলোচনা ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে।

কার্বি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি মস্কোকে ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই মুহুর্তে যুদ্ধবিরতি "ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করবে না" এবং তা "জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হবে"। কারণ তা রাশিয়াকে অবৈধভাবে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে থাকার স্বীকৃতি কেড়ে নেবে।

বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততাকে সতর্কতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে জেলেন্সকি বলেন, সাফল্য নির্ভর করবে কথার ওপর নয়, কর্মের ওপর।

গত মাসে বেইজিং ইউক্রেনে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য তার ১২-দফা পরিকাঠামো প্রকাশ করে এবং "বিস্তৃত যুদ্ধবিরতিতে" পৌঁছানোর জন্য "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি সংলাপের" আহ্বান জানায়।

এই নথিতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার দখলদারিত্বের সমাধান বা ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু ছিল না। এতে রুশ সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়নি।

জর্জ ডব্লিউ বুশ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড ক্রেমার বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে চীনারা “পুতিনের জন্য কিছু উদ্ধারের” চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।

ভয়েস অফ আমেরিকাকে তিনি বলেন, “রুশ বাহিনী ভালো অবস্থায় নেই। এই মুহুর্তে আমাদের চীনা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।“

সকলে অবশ্য বেইজিং এর কুটনৈতিক প্রয়াসকে দ্রুত নাকচ করে দিচ্ছেন না। পররাষ্ট্রনীতিতে সংযমের পক্ষে কাজ করা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পরিচালক জর্জ বিবে বলেন, পুতিন যেহেতু পাশ্চাত্যের সঙ্গে তার সেতুবন্ধন পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং চীনের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, তাই শি'র কাছে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভালো সুযোগ থাকতে পারে।

যদিও এই মুহুর্তে যুদ্ধরত পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

প্যারিস হুয়াং, মিশা কোমাদোভস্কি, গুওফু ইয়াং এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছেন।

XS
SM
MD
LG