অত্যাবশ্যক পরিষেবা (রক্ষণাবেক্ষণ) বিল-১৯৫২ ও অত্যাবশ্যক পরিষেবা (দ্বিতীয়) অধ্যাদেশ-১৯৫৮ কে আরও সময়োপযোগী করার জন্য বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) একাদশ জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল-২০২৩ উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই বিল পাস হলে জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে কোনো অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করতে পারবে সরকার। বিলে আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শ্রম আইনের সঙ্গে কোনো বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে এই আইনটি প্রাধান্য পাবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংসদে বিলটি পাস হওয়ার পরে সরকার প্রয়োজনীয় যেকোনো পরিষেবাকে অপরিহার্য ঘোষণা করতে সক্ষম হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত খসড়া আইনে অত্যাবশ্যক পরিষেবাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অবৈধ' ধর্মঘটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জনসাধারণের ক্ষতি করতে পারে এমন পরিষেবাগুলোকে প্রভাবিত করে এমন কোনো কারখানা বা অন্য স্থাপনা অবৈধভাবে ছাঁটাই করার অনুমতি ব্যবস্থাপনাকে দেওয়া হবে না।
অত্যাবশ্যক পরিষেবার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণসংক্রান্ত কার্যক্রম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, রেলপথ, নৌ, সড়ক ও আকাশপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।
সরকার সর্বোচ্চ ৬ মাসের জন্য যেকোনো সেবার অপরিহার্য অবস্থা ঘোষণা করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, এই ঘোষণার পর ধর্মঘট বা বন্ধের ঘোষণা এবং চাকরিতে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।