অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদের প্রতি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের আহ্বান


রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি এ লক্ষ্যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো সত্যিকার অর্থেই কার্যকর করার আহ্বান জানান। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দানকালে এ আহবান জানান তিনি।

আবদুল হামিদ বলেন, “আমাদের সংসদের সামগ্রিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। প্রথমত, শ্রেণী, পেশা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সমাজের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করা; দ্বিতীয়ত, আইন প্রণয়ন এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং তৃতীয়ত তদারকির মাধ্যমে নির্বাহী শাখার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।”

তিনি বলেন, “সংসদীয় ব্যবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো-কে সত্যিকার অর্থেই কার্যকর করতে পারলে, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে।” বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, “উন্নয়ন ও গণতন্ত্র তাল মিলিয়ে এগিয়েছে। দেশে গণতন্ত্র বিরাজ করলেই উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধিত হয়। আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভাবে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।”

উন্নয়নকে স্থায়ী ও টেকসই করতে, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চা-কে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে যে উন্নয়ন হয়,তা কখনই সর্বজনীন হতে পারে না। এ ধরনের উন্নয়ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।”

আবদুল হামিদ বলেন, “পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, দেশে ফিরেই, বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক লক্ষ্যে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেন। যার লক্ষ্য ছিলো জনগণের মুক্তি। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি দেশকে শূন্য থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।”

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু শহীদ না হলে দেশ অনেক আগেই উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো। ১৯৭৫ সালের পর বহু বছর উন্নয়ন ও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ ছিলো।”

সংসদকে কার্যকর করতে, সকল সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে মত, নীতি ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সংসদ-কে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার বিষয়ে কোনো ভিন্নমত থাকতে পারে না। এই সংসদ-কে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা দল-মত নির্বিশেষে সকল সদস্যের দায়িত্ব ও কর্তব্য।”

আবদুল হামিদ আরো বলেন, “গণতন্ত্র কোনো আমদানি-রপ্তানিযোগ্য পণ্য বা সেবা নয়। আমাদের মনে হলে অন্য দেশ থেকে পছন্দের পরিমাণে গণতন্ত্র আমদানি বা রপ্তানি করা এর সারমর্ম নয়। গণতন্ত্র বিকাশ লাভ করে এবং চর্চার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সংসদীয় কার্যক্রমে লিপিবদ্ধ বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য অধ্যয়ন করলে সংসদ কীভাবে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করা যায় তা আমরা শিখতে পারব। কীভাবে বিরোধী দলকে আস্থায় নেয়া যায় এবং অন্যদের সম্মান করা যায়, বঙ্গবন্ধু বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।”

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা ভাগ্যবান যে আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো বৈশ্বিক মর্যাদার একজন কিংবদন্তী তুল্য নেতা পেয়েছিলাম। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি।” তিনি বলেন, “সেসময় সংসদ নেতা শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘আপনাদের মনোযোগ দিতে হবে যাতে এই সংসদের মর্যাদা সমুন্নত থাকে, কারণ আমরা যে ইতিহাস তৈরি করেছি তাতে কোনো ত্রুটি থাকা উচিত নয়’।”

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি একাদশ জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন। ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনে বসে।

XS
SM
MD
LG