অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শুল্ক বিরোধ অমীমাংসিত রেখেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে আদানি পাওয়ার


ভারতের গুরুগ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় আদানি হাউজ কর্পোরেট ভবন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
ভারতের গুরুগ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় আদানি হাউজ কর্পোরেট ভবন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

বাংলাদেশ প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে। এ লক্ষ্যে, আদানি পাওয়ারের গোড্ডা ঝাড়খণ্ড প্ল্যান্ট-এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৭ এপ্রিল। তবে, শুল্ক সমস্যার বিরোধ নিষ্পতি করা হয়নি এখনো।

প্রাথমিকভাবে, গত ৯ মার্চ পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে বাংলাদেশে তার বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করে আদানি পাওয়ার।বাংলাদেশের সরকারি সূত্র মতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)-এর সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (এনার্জি অডিট) এর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি কারিগরি দল সররাহ প্রক্রিয়া পরিদর্শন করে। এর পর প্রতিনিধি দল বাণিজ্যিক অপারেশনের তারিখ (সিওডি) অনুমোদন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি জানিয়েছেন “প্রযুক্তি-দলটি মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভারতে গিয়েছিলো এবং আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্টে প্রায় ১০ দিন কাটিয়ে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে ফিরে আসে।” সূত্র আরো জানায়, “ এই সফরে ট্যারিফের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপত্তির পর, আদানি পাওয়ার কয়লার দাম কমানোর প্রস্তাব দেয়, তার পরও তারা বাংলাদেশের অবস্থান মেনে চলছে না।”

সূত্র উল্লেখ করে যে আদানি আইসিআই-৫০০ কয়লার জিএআর ব্যবহার করে, যা নিম্নমানের কয়লা। কিন্তু আইসিআই-৬৫০০ -এর জিএআর মূল্য উদ্ধৃত করতে চায়। আইসিআই-৬৫০০ -এর দাম হলো ১৭৯ দশমিক ৮৪ ডলার প্রতি টন, যেখানে আইসিআই-৫০০ এর দাম হলো ৯৫ দশমিক ৫০ ডলার। এই ক্ষেত্রে, আদানি কয়লার দাম ১৭৯ দশমিক ৮৪ ডলার উদ্ধৃত করতে চাইছে, যা বাংলাদেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশে আদানি এবং বিপিডিবির মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর, আদানি দাম কমাতে সম্মত হয়েছে এবং এটি পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শুল্কের মধ্যে রাখতে চায়। বিপিডিব’র সিনিয়র কর্মকর্তারা জানান, “তারা কয়লার মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট সূত্রে আটকে থাকে না, যা বাংলাদেশের জন্য সমস্যাযুক্ত। কারণ প্রতি মাসে বিপিডিবি-কে শুল্ক ইস্যুতে আদানির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে যা বাংলাদেশের জন্য কাম্য নয়।”

এর আগে, আদানি গ্রুপের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসে এবং ‘বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি মতে (পিপিএ) কয়লা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করে। উভয় পক্ষ একে অপরের কথা শুনেন এবং তারা এই ইস্যুতে নিজ নিজ পক্ষে তাদের দিকগুলো উপস্থাপন করেন। আদানির প্রতিনিধি জানিয়েছেন যে তারা পিপিএ-এর কয়লা মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতিতে বিপিডিবি’র অবস্থান তাদের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার কাছে জানাবে এবং তারা পরে আরো বৈঠক করবে।

বাংলাদেশ সরকার আদানি পাওয়ার লিমিটেড এর সঙ্গে ভারতের ঝাড়খন্ডের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ আমদানির যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) করেছে, তার সংশোধন চেয়েছিলো।

XS
SM
MD
LG