অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন


ভারতের কর্ণাটকের মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রজেক্ট টাইগারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
ভারতের কর্ণাটকের মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রজেক্ট টাইগারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন যে বাংলাদেশে বাঘ ও চিতাবাঘ সংরক্ষণের জন্য ভারতের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই দেশই বাঘ ও চিতা বাঘের আবাসস্থল। রবিবার (৯ এপ্রিল) ভারতের কর্ণাটকের মাইসুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রজেক্ট টাইগারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

শাহাব উদ্দিন বলেন, “পৃথিবীতে সাতটি বড় বিড়াল প্রজাতি এবং বাংলাদেশে দু’টি বিড়াল প্রজাতি বিপন্ন। এগুলো সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনা করে, আমরা এই প্রজাতিগুলোর আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর সদস্যপদ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) গঠন-কে সমর্থন করি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে শূন্য শিকারের লক্ষ্য অর্জন করে বন্য বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে। আশার বিষয় যে বন্য বাঘের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।” বাংলাদেশ সরকার জাতীয় প্রাণী এবং অন্যান্য বন্য প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

শাহাব উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ সরকার জাতীয় বাঘ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি (২০২২ থেকে ২০৩৪) এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭) বাস্তবায়ন করছে। যার মধ্যে রয়েছে; বাঘ জরিপ, জেনেটিক অধ্যয়ন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ড্রোন দিয়ে স্মার্ট টহল ও পর্যবেক্ষণ এবং সুন্দরবন ও বাংলাদেশে বাঘের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে, বন বিভাগের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি।

তিনি বলেন, “সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১১ সালে একটি প্রটোকল সই হয়। বাঘ ও মানুষের মধ্যে সংঘাত প্রশমিত করতে আমাদের সরকার ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ গঠন করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করেছে।"

বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “বন্যপ্রাণী শিকার ক্ষতিপূরণ বিধিমালা-২০২১ -এ বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা প্রতিরোধ এবং বন্যপ্রাণী শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে বন বিভাগের অধীনে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং শেখ কামাল বন্যপ্রাণী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; যা মানসম্পন্ন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাটস অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) চালু করেছেন। এই জোট বিশ্বের সাতটি বড় বিড়াল; বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, তুষার চিতা, পুমা, জাগুয়ার এবং চিতার সুরক্ষা এবং সংরক্ষণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।

XS
SM
MD
LG