অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিদ্রোহী বাহিনীর ওপর বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের জান্তা


মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার ৭৮তম বার্ষিকীতে রাজধানী নেপিডাতে সামরিক কর্মকর্তারা কুচকাওয়াজ করছেন। ২৭ মার্চ ২০২৩। ফাইল ছবি।
মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার ৭৮তম বার্ষিকীতে রাজধানী নেপিডাতে সামরিক কর্মকর্তারা কুচকাওয়াজ করছেন। ২৭ মার্চ ২০২৩। ফাইল ছবি।

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা নিশ্চিত করেছে, তারা একটি গ্রামে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে বিরোধী বাহিনীর একটি অনুষ্ঠান চলছিল।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমারের সাগাইং এলাকায় মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) এই হামলা চালানো হয়। সে সময় পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) এক অনুষ্ঠান চলছিল। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত বেসামরিক সরকারের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সামরিক শাখা হচ্ছে পিডিএফ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। জাও মিন তুন বলেন, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন পিডিএফের সদস্য। হামলায় কিছু বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

এনইউজি ও পিডিএফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মঙ্গলবারের হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, মঙ্গলবারের হামলা এবং ১০ এপ্রিল পশ্চিম চিন রাজ্যে বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনা “বার্মার মানুষের জীবন ও চলমান ভয়াবহ রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতি সরকারের চরম অবহেলার” বিষয়টিকে আরও প্রকটভাবে প্রকাশ করছে। প্যাটেল মিয়ানমারের বিকল্প নাম ব্যবহার করে এই বিবৃতি দেন।

প্যাটেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্মা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে, এই ভয়াবহ সহিংসতার অবসান ঘটাতে, মানবিক সহায়তা প্রদানকারীদের অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে এবং বার্মার জনগণের খাঁটি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাতে”।

সামরিক বাহিনীর দাবি, ২০২০ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করার কারণে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে অং সান সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিল।

একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক গ্রুপের মতে, এই অভ্যুত্থানের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মিয়ানমারজুড়ে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এর ফলে সেনাবাহিনীর হাতে ৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। এই বিক্ষোভ পরিশেষে দেশের গ্রামাঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও আরও বেশি সার্বভৌমত্ব পাওয়ার অধিকারের জন্য কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকা একাধিক বিদ্রোহী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাঝে সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

XS
SM
MD
LG