অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঈদের যাত্রা শুরু হওয়ায় ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকার রাস্তা


পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করায় ঢাকার রাস্তাগুলো ফাঁকা হতে শুরু করেছে।

বেসরকারি সংগঠন নৌ পরিবহন, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএ্সআরআর) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (২০ এপ্রিল) মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ও আশপাশের এলাকা ছেড়ে চলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

ঈদুল ফিতরের আগে মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) সরকারি, আধা-সরকারি এবং অনেক বেসরকারি অফিসে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় ওই দিন বিকেল থেকেই মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

এ বছর বুধবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের ঈদের ছুটি।

জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ প্রতি বছর তাদের গ্রামের বাড়িতে যান। এর মধ্যে ২০ শতাংশ যান নৌপথে এবং ২০ শতাংশ রেলপথে।

জাতীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদ মিয়া বলেন, ঈদের আগে ১৩ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত নয় দিনে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নৌপথে ঢাকা ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে সদরঘাট টার্মিনাল দিয়ে প্রতিদিন ৩ লাখ মানুষ উপকূলীয় জেলায় যাবেন। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর দিয়েও ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন লাখ লাখ মানুষ।

এ ছাড়া শিপিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (এসসিআরএফ) জানিয়েছে, ঈদে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ সড়কপথে ঢাকা ছাড়বেন। এই সংখ্যা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মোট মানুষের ৬০ শতাংশ।

এদিকে ট্রেনে যাবেন আরও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক পূর্ব) আখের হুসাইন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত থেকে অনেকে আবদুল্লাহপুর থেকে উত্তরের জেলা এবং ময়মনসিংহ জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ একই গন্তব্যের উদ্দেশে আব্দুল্লাহপুর ত্যাগ করেন।

তবে ঢাকায় বসবাসকারী গৃহমুখী মানুষের সংখ্যা এখন তুলনামূলক কম। সন্ধ্যার পর তা বাড়বে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে আখের হুসাইন বলেন, অধিকাংশ বাস সময়সূচি অনুযায়ী আব্দুল্লাপুর ছেড়েছে।

মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার (দারুস সালাম জোন) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, বুধবার ভোরে বাড়িমুখী মানুষের ভিড় শুরু হয় এবং গাবতলী থেকে অধিকাংশ বাস প্রায় সময়মতো বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সূত্র জানায়, বেশির ভাগ বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে সময়সূচি অনুযায়ীই ছেড়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, সকাল থেকে অধিকাংশ ট্রেন সময়সূচি অনুযায়ী স্টেশন ছেড়েছে।

XS
SM
MD
LG