অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বান্দরবানে রাজপরিবারের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী নদী পূজা সম্পন্ন

অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানে রাজপরিবারের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী নদী পূজা সম্পন্ন। ২২ এপ্রিল, ২০২৩।
অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানে রাজপরিবারের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী নদী পূজা সম্পন্ন। ২২ এপ্রিল, ২০২৩।

যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে, বাংলাদেশের বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ঐতিহ্যবাহী নদী পূজা সম্পন্ন করেছে। অশুভ শক্তিকে প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে এই পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা উপলক্ষে, শনিবার (২২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান রাজ-পরিবারের আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শোভাযাত্রাটি রাজবাড়ি থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে, উজানি পাড়া সাঙ্গু নদীর তীরে এসে সমবেত হয়। শোভাযাত্রায় বান্দরবানের বোমাং সার্কেল চীফের জ্যৈষ্ঠ রাজপুত্র চসিংপ্রু বনি, রাজপরিবারের সদস্য, বিভিন্ন মৌজার হেডম্যান ও কারবারি (পাড়া প্রধান) এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। এতে নেতৃত্ব দেন রাজপুত্র।

পরে, সাঙ্গু নদীর তীরে বট গাছ ও নদীর পূজা করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় ভক্তরা মিষ্টান্ন, মোমবাতি ও ধুপ জ্বালিয়ে এবং নদীতে ফুল বিসর্জন দিয়ে পরমাত্মার আশির্বাদ প্রার্থনা করেন। এছাড়া নতুন বছরে পৃথিবীতে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্য প্রার্থনা করা হয়।

এই অঞ্চলের লোককথা অনুযায়ী, প্রাচীনকালে পাহাড়ি অঞ্চল বান্দরবানে অশুভ শক্তি প্রভাব বিস্তার করতো। এতে পাহাড়বাসী বিভিন্ন সময় নানান ধরনের রোগব্যাধিসহ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতো। অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নদী পূজা (ক্ষ্যং ফুহ) পালন শুরু হয়। সেই বিশ্বাস থেকে এ পূজা পালিত হয়ে আসছে শতাব্দী কাল ধরে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর বৈশাখ মাসে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এই নদী পূজার আয়োজন করা হয়।

This item is part of
XS
SM
MD
LG