অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সুদানের সঙ্গে নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার চুক্তির খবর নিশ্চিত করছে না যুক্তরাষ্ট্র


মাহিন এস-এর দেয়া এই ছবি; সুদানের দোহা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের কাছে ধোঁয়ায় ছেয়ে আছে খার্তুমে আকাশ; ২১ এপ্রিল ২০২৩।
মাহিন এস-এর দেয়া এই ছবি; সুদানের দোহা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের কাছে ধোঁয়ায় ছেয়ে আছে খার্তুমে আকাশ; ২১ এপ্রিল ২০২৩।

ওয়াশিংটন সময় শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক মুখপাত্র ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, সুদানের সেনাবাহিনী দেশটির রাজধানী খার্তুম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে। পরে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি।

মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা খার্তুমে আমাদের দূতাবাসের সাথে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি এবং আমাদের কর্মীদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছি। তবে, নিরাপত্তার জন্য তাদের গতিবিধি বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা সম্ভব নয়।“

সুদানের সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।এ সময় তিনি তাদের দেশের কূটনীতিক ও নাগরিকদের সুদান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছেন। সুদানে গত সপ্তাহ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে; এই সংঘর্ষে চারশ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সুদানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায়, বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরানোর উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত সেখানে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

বুরহান বলেন, সৌদি আরবের কূটনীতিকদের ইতোমধ্যে পোর্ট সুদান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং বিমানে করে স্বদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জর্ডানের কূটনীতিকদের শিগগিরই একই ভাবে সরিয়ে নেয়া হবে। মিশরও তাদের কিছু কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে; অন্যদিকে জাপানও তাদের কর্মী ও নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, খার্তুমে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রায় ৭০ জন কর্মী রয়েছেন এবং তাদের এক জায়গায় একত্রিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল শুক্রবার সুদানে অবস্থানরত সরকারী কর্মচারী নন এমন নাগরিকদের নিরাপদে থাকতে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এই সংকটের সময় সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বুরহান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস, আরএসএফের কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো, উভয়ের সাথেই বারবার টেলিফোনে যোগাযোগ করছেন। মোহাম্মদ হামদান দাগালো হামেদতি নামেও পরিচিত।

ব্লিংকেন, ২৩ এপ্রিল রবিবার মুসলিমদের ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত, উভয় জেনারেলের প্রতি দেশব্যাপী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্লিংকেন বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারপার্সন মুসা ফাকির নেতৃত্বে একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনেও অংশ নেন। অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী সকল নেতা সর্বসম্মতভাবে যুদ্ধবিরতির জরুরি প্রয়োজনের বিষয়ে একমত হন।

এই দুই জেনারেল একসময় পরস্পরের সহযোগী ছিলেন। তারা যৌথভবেই ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। পরে তারা তিক্ত ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন।

XS
SM
MD
LG