অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মারাত্মক অসুখ বটুলিজম-এ মৃত্যু ভারতের কুনো অভয়ারণ্যের চিতা উদয়ের


 চিতা উদয়
চিতা উদয়

এক মারাত্মক অসুখ ধরে গিয়েছিল আফ্রিকার নামিবিয়া থেকে ভারতে নিয়ে আসা চিতা উদয়ের। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ছ' বছর। গত এক মাসে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের কুনো অভয়ারণ্যে পরপর দুই চিতার মৃত্যু ভাবিয়ে তুলেছে বন দফতরকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কুনোর জঙ্গলে চিতা ছেড়েছিলেন। তারপরেই একে একে চিতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একটি চিতা বারে বারেই পালাচ্ছে সংরক্ষিত অভয়ারণ্য থেকে। আফ্রিকান চিতাদের নিয়ে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হচ্ছেন বন আধিকারিকরা। এর মধ্যেই চিতা উদয়ের ময়নাতদন্ত ও নেক্রোপসির রিপোর্ট সামনে এসেছে যা রীতিমতো চিন্তা বাড়িয়েছে বনকর্মীদের।

বন দফতরের পশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কুনোর এই দ্বিতীয় চিতার মৃত্যুর কারণ, কার্ডিয়ো পালমোনারি ফেলিওর। প্রধান বন্যপ্রাণ সংরক্ষক জেএস চৌহান বলেছেন, "পশু চিকিৎসকেরা চিতাটির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে দেখেছেন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, মৃত্যুর কারণ কার্ডিয়ো পালমোনারি ফেলিওর।" এই কার্ডিয়াক ফেলিওরের কারণের রিপোর্টও হাতে পেয়েছেন বন আধিকারিকরা।

পশু চিকিৎসকরা বলছেন, চিতা উদয় মারাত্মক বটুলিজম অসুখে ভুগছিল। এটি একধরনের স্নায়ুর রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। শরীরে টক্সিন ঢোকে এবং তার থেকেই ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বিকল হতে শুরু করে। রোগটির লক্ষণ দুর্বলতা, ঝাপসা দৃষ্টি, ক্লান্তি এবং কথায় জড়তা দিয়ে শুরু হয়। এরপরে হাত, বুকের পেশী এবং পা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বমি বমি ভাব, পেট ফুলে যাওয়া এবং ডায়রিয়াও হতে পারে।

চিতা উদয়ের মধ্যেও একই উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। হাঁটাচলা করতে কষ্ট হচ্ছিল তার। প্রায় পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। ঝাপসা হয়েছিল দৃষ্টি। খেতেও পারছিল না উদয়। তাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অন্য এনক্লোজারে। সেখানেই মৃত্যু হয় তার।

দক্ষিণ আফ্রিকার পশু চিকিৎসক আদ্রিয়ান টরডিফে বলছেন, বটুলিজম এমন এক রোগ যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। এটির কারণ এন্ডোস্পোর। মাটি, জল ও খাবার থেকে শরীরে ঢুকতে পারে। অক্সিজেনের মাত্রা কম হলে বা নির্দিষ্ট কোনও তাপমাত্রায় এলে এরা বোটুলিনাম টক্সিন তৈরি করে। টক্সিনযুক্ত খাবার খেলে শরীরে ক্লোসট্রিডিয়াম বটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার বাড়বৃদ্ধি হয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পক্ষাঘাত দেখা দেয়, দুর্বল হয়ে পড়তে পারে শরীর। কার্ডিয়াক ফেলিওর হতে পারে। চিতা উদয়েরও তাই হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষিক্ষেত্রে অত্যধিক সার, কীটনাশক থেকে অথবা বিষাক্ত জল, খাবার থেকে পশুদের শরীরে এই রোগ হয়। জল থেকেও রোগ ছড়াতে পারে। চিতা উদয়ের শরীরে কীভাবে ব্যাকটেরিয়া ঢুকল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

XS
SM
MD
LG