অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রসার ভারতীর চুক্তি হল আরএসএস পরিচালিত হিন্দুস্থান সমাচারের সঙ্গে


ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রসার ভারতীর কার্যালয়। (ফাইল ছবি)
ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রসার ভারতীর কার্যালয়। (ফাইল ছবি)

ভারতের দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন আরএসএস-পরিচালিত সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রসার ভারতী। প্রসার ভারতীর অধীনেই রয়েছে দূরদর্শন ও আকাশবাণী। দেশ বিদেশের খবর সংগ্রহ ও প্রচার করার জন্য হিন্দুস্থান সমাচারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করল তারা।

দিল্লি ও বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে নিজস্ব প্রতিনিধি থাকলেও এতদিন দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিও কর্তৃপক্ষ, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (পিটিআই) এবং ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়ার (ইউএনআই) কাছ থেকেই মূলত খবর সংগ্রহ করত। এবার সেই জায়গা নিল হিন্দুস্থান সমাচার।

২০১৭ সাল থেকেই হিন্দুস্থান সমাচার নিজেদের সংবাদ এজেন্সি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিত প্রসার ভারতীকে। অবশেষে এবছর ৯ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, হিন্দুস্থান সমাচারের তরফে প্রতিদিন ১০০টি নিউজ স্টোরি এবং কমপক্ষে ১০টি জাতীয় স্তরের খবর ও বিভিন্ন আঞ্চলিক মিডিয়ার ৪০টি খবর প্রসার ভারতীকে দিতে হবে। পরিবর্তে প্রসার ভারতী হিন্দুস্তান সমাচারকে দেবে ৭.৭ কোটি টাকা। দু-বছরের জন্য স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে।

১৯৪৮ সালে আরএসএস প্রচারক ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিবম শঙ্কর আপ্তে ও আরএসএস মুখপাত্র মাধব সদাশিব গোলওয়ালকার প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দুস্তান সমাচার। বহুভাষিক এই সংবাদ সংস্থা, এই মুহূর্তে সরকারি বিজ্ঞাপনের অন্যতম প্রধান উপভোক্তা। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি মিডিয়ার গৈরিকীকরণের অভিযোগ করেছিল একাধিক বিরোধী দল। এই ঘটনা সেই অভিযোগকেই আরও মান্যতা দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আর্থিক দিক থেকে পিটিআই ও ইউএনআই অনেক বেশি ব্যয়বহুল, এরকম একটি অভিযোগ সরকারি মহলে কিছুদিন ধরেই ঘোরাফেরা করছিল। হিন্দুস্তান সমাচারের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় গালওয়ান সংঘর্ষের সময়। প্রসার ভারতীর আধিকারিক সমীর কুমার পিটিআই-এর বিপণন অধিকর্তাকে চিঠি লিখে জানান, গালওয়ান সংঘর্ষ পিটিআই যেভাবে কভার করেছে, তাতে মোটেই সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় সরকার।

এই দুই সংস্থার বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, ‘জাতীয় স্বার্থ’ বিঘ্নিতকারী তথ্য পরিবেশন, ‘ভারতের জাতীয় সঙ্ঘতি’র প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া এবং ‘দেশের মানুষের স্বার্থ’ বিরোধী ভুল সংবাদ সরবরাহ করা। তার ফলেই অবশেষে এই দুটি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে হিন্দুস্তান সমাচারের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে প্রসার ভারতী, সূত্র মারফত এমনটাই জানা গেছে।

XS
SM
MD
LG