সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ইউএনবির বিশেষ প্রতিবেদক এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সহসভাপতি।
ডিআরইউর বিবৃতি
বুধবার (২৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মইনুল আহসান ইউএনবি সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, “সাংবাদিক সমাজ শুরু থেকেই বলে আসছে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। সাংবাদিকেরা এই আইনের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন”।
তাঁরা অবিলম্বে ডিএসএ বাতিলের দাবি জানান।
ক্র্যাবের বিবৃতি
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।
বুধবার ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। হয়রানির উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, “মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত”।
মামলার বিষয়ে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় আমাকে জড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি সবসময়ই দায়িত্বশীল ও পেশাগতভাবে আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি”।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী একটি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাকে এমন একটি মামলায় জড়িয়েছে”।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল, কারণ তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের সদস্য ছিলেন, যেখানে সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন।
জাহাঙ্গীর অবশ্য বলেছেন যে তিনি এমন একটি গ্রুপ সম্পর্কে অবগত নন এবং কে তাঁকে এর সদস্য করেছে তাও তিনি জানেন না।
এদিকে হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা ডিএসএ মামলায় জাহাঙ্গীরকে আগাম জামিন দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জাহাঙ্গীরের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট ফরহাদ হোসেন।