অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আসন্ন বিশপদের বৈঠকে নারীদের ভোটাধিকার দিলেন পোপ


ভ্যাটিকানের সেইন্ট পিটার্স স্কোয়ারে জনসাধারণের সামনে সাপ্তাহিক উপস্থিতি শেষে ফিরছেন পোপ ফ্রান্সিস (২৬ এপ্রিল, ২০২৩)
ভ্যাটিকানের সেইন্ট পিটার্স স্কোয়ারে জনসাধারণের সামনে সাপ্তাহিক উপস্থিতি শেষে ফিরছেন পোপ ফ্রান্সিস (২৬ এপ্রিল, ২০২৩)

বিশপদের একটি আসন্ন সভায় নারীদের ভোটাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পোপ। এই ঐতিহাসিক সংস্কারের মাধ্যমে পোপের নারীদেরকে আরও বেশি পরিমাণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়ার এবং সাধারণ জনগণকে ক্যাথোলিক চার্চের কার্যধারা নির্ধারণে আরও অবদান রাখতে দেওয়ার আশার প্রতিফলন ঘটেছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে নারীরা ভোটাধিকারের দাবি জানানোর পর সিনোড অফ বিশপস নামে ভ্যাটিকানের অঙ্গসংগঠনের নীতিমালায় পরিবর্তন আনার বিষয়টিতে ফ্রান্সিস অনুমোদন দিয়েছেন। এই সংগঠন নিয়মিত বিরতিতে সারা বিশ্বের বিশপদের বৈঠকের আয়োজন করে।

ভ্যাটিকান বুধবার পোপের অনুমোদিত সংস্কারের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এতে চার্চের দৈনন্দিন কার্যধারায় পূণ্যার্থী সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাত্রা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যাজক, বিশপ ও কার্ডিনালরা এসব দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

ক্যাথোলিক নারীদের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নারীদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার জন্য ভ্যাটিকানের সমালোচনা করে এসেছে। এসব সংগঠন তাৎক্ষনিকভাবে এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করে এর প্রশংসা করেছে।

১৯৬০ সালে আয়োজিত দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলে চার্চের আধুনিকায়ন করার পর থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কে যোগ দেওয়ার জন্য পোপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশপদের কয়েক সপ্তাহ করে পর্যায়ক্রমে রোমে আহবান জানিয়ে আসছে। বৈঠক শেষে বিশপরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন এবং তারপর সেগুলো পোপের কাছে পেশ করেন। পোপ বিশপদের মতামতকে আমলে নিয়ে একটি নথি তৈরি করেন।

এখন পর্যন্ত, শুধু পুরুষরাই এ প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে পারতেন।

কিন্তু নতুন সংস্কারের পর, ৫ জন পুরুষ পাদ্রীর পাশাপাশি ৫ জন নারী সিস্টারও ধর্মীয় প্রতিনিধি হিসেবে ভোট দিতে পারবেন।

এছাড়াও, বিশপ নন এরকম ৭০ জন সিনোড সদস্যকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফ্রান্সিস, যাদের অর্ধেক হবেন নারী। এই নারীরাও ভোট দিতে পারবেন।

ফ্রান্সিস ক্যাথোলিক চার্চের পুরোহিত হিসাবে নারীদের নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন, তবে সাম্প্রতিক কালের অন্য যেকোনো পোপের তুলনায় তিনি চার্চের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি ভ্যাটিকানের উচ্চ পদগুলোতে বেশ কয়েকজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে এখনো কোনো নারী দিকাসতেরিজ নামে পরিচিত ভ্যাটিকানের মূল কার্যালয় বা বিভাগের প্রধান পদে নিয়োগ পাননি।

XS
SM
MD
LG