অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দেড় হাজার কোটি টাকা যায় অযোগ্য সুবিধাভোগীদের কাছে: সিপিডির জরিপ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত গোল টেবিল আলোচনায় বক্তারা। ৩০ এপ্রিল, ২০২৩।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত গোল টেবিল আলোচনায় বক্তারা। ৩০ এপ্রিল, ২০২৩।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলেছে, ভুল নির্বাচনের কারণে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বরাদ্দের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বা দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয় অযোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য।

রবিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘হাউ ইমপ্রুভ কভারেজ অ্যান্ড ইফেক্টিভনেস অফ দ্য সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রাথমিক জরিপের তথ্য প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আ্ওতায় সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে, প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক এবং ৩৩ শতাংশ বিধবা রয়েছেন যারা অযোগ্য সুবিধাভোগী। এদের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে অযোগ্য সুবিধাভোগীদের পেছনে।

এটি প্রতিরোধ করার জন্য, কার্যকর পারিবারিক জরিপ এবং স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি। এই অপচয় রোধ করা গেলে প্রকৃত যোগ্যদের ৪৫ শতাংশ ভাতার আওতায় আনা সম্ভব বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে যোগ্য অ-সুবিধাভোগীদের ভাতার আওতায় আনতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

জরিপটি তুলে ধরেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সুবিধাভোগীরা বিশ্বাস করে যে তারা স্বজনপ্রীতি বা একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে সুবিধা পাচ্ছে। এমনকি পেনশন এবং দুর্বল গোষ্ঠী উন্নয়নের মতো অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীও বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা পাচ্ছেন।

পুষ্টি বিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, ভাতা গ্রহীতাদের পুষ্টির প্রধান উৎস ডাল ও শাকসবজি। সিপিডি পরামর্শ দিয়েছে, এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য, দেশের সকল যোগ্য ব্যক্তিদের একটি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। এর জন্য বাজেটে অতিরিক্ত ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন, যা কর ফাঁকি বন্ধ করে আয় করা সম্ভব বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, “রাষ্ট্র, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ধনী ব্যক্তিদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কাছে আটকা পড়েছে এবং দারিদ্র্য কমলেও বৈষম্য বাড়ছে।” তিনি বলেন, “বৈষম্য কমাতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সংস্থান নেই এবং এটি কেবল তখনই করা যেতে পারে, যদি কর ফাঁকি বন্ধ করা যায়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, ডা. মো. আব্দুল আজিজ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক বিবেচনার উপস্থিতি রয়েছে বলে মত দেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ক্ষতিগ্রস্তরা নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছে না এবং যারা এটি পাচ্ছেন, যা উচিত ছিলো তার চেয়ে কম পাচ্ছেন তারা।

This item is part of
XS
SM
MD
LG