অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে সমর্থন করবে বিশ্বব্যাংক: ডেভিড মালপাস

বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে সমর্থন করবে বিশ্বব্যাংক। একথা বলেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস। সোমবার (১ মে) বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

ডেভিড মালপাস বলেন, “ বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের অবস্থানে পৌঁছানোর পথে চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক পরিবেশে যাত্রা করবে; এ কারণে সমর্থন করা হবে।” তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত যে সঠিক নীতিমালা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধির আকাঙ্খা অর্জন করতে পারবে।”

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের অদম্য শক্তি ও সহনশীলতা এবং একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জাতীয় ইচ্ছাশক্তির কারণে বাংলাদেশের অসাধারণ যাত্রা সম্ভব হয়েছে।” মালপাস টুইট করেছেন, “অনেক দেশ বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার উদ্ভাবনী পদ্ধতি থেকে শিখতে পারে।”

ডেভিড মালপাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে উদযাপনে বলেছিলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারিত্বের জন্য গর্বিত এবং আপনার সঙ্গে একসঙ্গে পরবর্তী অধ্যায় খোলার জন্য উন্মুখ।” তিনি আরো বলেছেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে তিনটি পাঠ আলাদা এবং অন্যান্য দেশকে অনুপ্রাণিত করতে পারে; নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন, মানুষ ও সংযোগে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত মূলক ভাবে এগিয়ে যাওয়া।”

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন করেছেন। এই অংশীদারিত্ব লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করেছে।

মালপাস বাংলাদেশ এবং এর জনগণের প্রতি বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে, আমরা আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে এর অগ্রগতিকে স্বাগত জানাই। আমরা বেসরকারি খাতকে সক্ষম করতে, নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে, করের ভিত্তি প্রসারিত করতে, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে এবং দেশটির অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ধাক্কাগুলোর প্রতি সহনশীলতা তৈরি করতে আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। ২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে হাজার হাজার জীবন বাঁচিয়েছে।

ডেভিড মালপাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, “আমরা রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদানে আপনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।”

বিশ্বব্যাংক, কানাডার সহায়তায় এবং জাতিসংঘ পরিবার ও অন্যান্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায়, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ৫৯ কোটি ডলার অনুদানের অর্থ সংগ্রহ করেছে।

XS
SM
MD
LG