অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরান তার হত্যাযজ্ঞে যুক্ত করলো আরও সাতজনের প্রাণদন্ড: অধিকার গোষ্ঠী


৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ায় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে একটি টুইট বার্তা দেখছেন যেখানে ইরানি কর্তৃপক্ষ মোসেন শিকারিকে যে পাঁসি দিছে তার খবর দেয়া হয়েছে। ,
৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোশিয়ায় এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে একটি টুইট বার্তা দেখছেন যেখানে ইরানি কর্তৃপক্ষ মোসেন শিকারিকে যে পাঁসি দিছে তার খবর দেয়া হয়েছে। ,

একটি অধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে যে মাদক ব্যবহার ও ধর্ষণের অভিযোগে তেহরানের অদূরে দুটি কারাগারে ইরান সাত জনকে হত্যা করেছে। সক্রিয়বাদীরা বলছেন গত দু সপ্তাহ ধরে সে দেশে যে ফাঁসি-যজ্ঞ চলছে , এটি সে ঘটনারই অংশ।

নরওয়ে কেন্দ্রিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরান হিউমান রাইটস জানিয়েছে, তেহরানের অদূরে কারাজ শহরে , গেজাল হেসার কারাগারে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে তিন জনকে হত্যা করা হয়। কারাজের আরেকটি কারাগারা রাজাই শাহর কারাগারে আরও চারজনকে ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয়। বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে মাদক রাখার অভিযোগে তিন জনের হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা বলছে যে দোষী সাব্যস্তরা কোকেইন তিরণ দলের সদস্য ছিল। তবে ধর্ষনের অভিযোগে এই অবধি চারটি হত্যাকান্ড সম্পর্কে কোন সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

ইরান হিউমান রাইটস (আইএচি আর) বলেছে যে সর্বসাম্প্রতিক এই ফাঁসি দেয়ার ঘটনার অর্থ হচ্ছে , শুধু মাত্র গত ১২ দিনে ইরান কমপক্ষে ৬৪ জনকে ফাঁসি দিয়েছে। আই এইচ আর ‘এর পরচিালক মেহমুদ আমিন মোঘাদ্দাম বলেন, “ সরকারের এই হত্যাযন্ত্রটি গতি সঞ্চার করেছে এবং এর লক্ষ্য হচ্ছে লোকজনকে আতঙ্কিত করা এবং এর শকিার হচ্ছেন সমাজের সব চেয়ে দূর্বল মানুষরা”।

আইএইচ আর’র পোস্ট করা ফুটেজে দেখা যাচ্ছে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে যে তিনজনকে ফাঁসি দেয়া হয় তাদের পরিবারের সদস্যরা গেজেলে হেসাল কারাগারের বাইরে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন । এটি ছিল ফাঁসি বন্ধ করানোর জন্য তাদের শেষ চেষ্টা।

ভিডিওতে বন্দুকের শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং আইএইচ আর বলছে বিক্ষোভ দমনের জন্য পুলিশ কাাঁনে গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করে। তারা আরও বলেছে যে প্রহারের পর পরিবারের একজন সদস্যকে গুরুতর আঘাতসহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রতিবাদকারীরা ইরানকে এই বলে অভিযুক্ত করেছেন যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয় তার ককে সপ্তাহ পরে ইরান মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য মৃত্যুদন্ড দিয়ে চলেছে। নারীদের পোশাক বিধি লংঘনের কথিত অভিযোগের পর পলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এই সব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা দেয়।

এপ্রিল মাসে আইএইচ আর এবং প্যারিস ভিত্তিক টুগেদার আগেইনস্ট দ্য ডেথ প্যানাল্টি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে গত বছর ইরানে অন্তত ৫৮২ জনকে হত্যা করা হয় । এই সংখ্যা ২০১৫ সালের পর ধেকে সে দেশে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং ২০২১ সালে রেকর্ড সংখ্যক ৩৩৩ জনের মৃত্যুদন্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ফাঁিসি প্রদানের গতি আরও বেশি এবং আই এইচ আর বলছে এ বছর এ অবধি ২১৮ জনকে মৃত্যদন্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার ইরানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দু জনকে হত্যা করার পর জাতিসংঘ মঙ্গলবার সতর্ক করে দিয়েছিল যে সে দেশে আশংকাজনক ভাবে অনেক বেশি সংখ্যক লোকের হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।

XS
SM
MD
LG