অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রসঙ্গঃ বাংলাদেশের উন্নয়নে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অংশগ্রহণ


"দুর্নীতির মাধ্যমে যা টাকা সরিয়ে ফেলা হয় তার থেকে অনেক বেশি টাকা অপচয় করা হয়," বলেছেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও আর্থিক অপচয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি "উন্নয়ন মানেই দালান, উন্নয়ন মানেই গাড়ি", কিছু মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের এ মানসিকতারও সমালোচনা করেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কের পঞ্চাশ বছর উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-তে এলে তার এই সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।
সাক্ষাৎকারে পরিকল্পনা মন্ত্রী, তার মন্ত্রণালয়ের (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) মাধ্যমে অনুমোদিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়, দুর্নীতির যে সুযোগ সৃষ্টি করে তাতে তার মন্ত্রণালয়ের দায় নিয়েও কথা বলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ করার পদ্ধতি, ক্রেডিবিলিটি, যাচাই করার পদ্ধতির মান নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রী, ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যেন মধ্যম-আয়ের দেশে পরিণত হয় সেজন্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন।
স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোর মতো প্রতিবছর জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য হালনাগাদ করা, বাংলাদেশকে একটি ক্যাশলেস সোসাইটিতে পরিণত করা নিয়ে তাদের উদ্যোগ, বিষয়ে জনাব মান্নান তার মতামত দেন।
কানাডার বেগম পাড়া, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ব্যবস্যা গড়ে তোলা, সুইস ব্যাংক-এ টাকা জমা রাখাসহ বাংলাদেশ থেকে যে বিপুল পরিমান অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে, বা এখনও হচ্ছে, তা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গত পাঁচ বছরে তারা কী উদ্যোগ নিয়েছেন তা নিয়েও এম এ মান্নান তার অবস্থান তুলে ধরেন।
যথাযথ সমীক্ষা, চাহিদা নিরূপণ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় ছাড়াই ভবন নির্মাণের মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদের যে অপচয় হবার খবর সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে তার দায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওপর কতটুকু বর্তায় সে ব্যাপারে প্রশ্নেরও তিনি জবাব দেন।
ভয়েস অফ আমেরিকার হয়ে সাক্ষাৎকারটি নেন, শতরূপা বড়ুয়া।
XS
SM
MD
LG