দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগের অবসানের প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ফলে, লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (গোদ রোগ) নির্মূল করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (১৩ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।
লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস এমন একটি রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে পঙ্গু করে দেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, “বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এই সাফল্যের কারণ। এটি উদ্ভাবনী পন্থা এবং নির্মূল কৌশলগুলোর সূক্ষ্মভাবে বাস্তবায়নের ফলাফল।”
ডা. পুনম এই অঞ্চলের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ (এনটিডি)-এর অবসান-কে অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (গোদ রোগ), এলিফ্যান্টিয়াসিস নামেও পরিচিত। ফাইলেরিয়া প্যারাসাইট, মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হলে, এটিকে এলিফ্যান্টিয়াসিস বলে উল্লেখ করা হয়।
সংক্রমণ সাধারণত শৈশবে অর্জিত হয়। আর এর বেদনাদায়ক ও বিকৃত অবস্থা দৃশ্যমান হয় জীবনের অনেক পরে। এ রোগে আক্রান্ত হলে, প্রায়শই শরীরের অংশগুলো বৃদ্ধি পায়, ব্যথা অনুভূত হয় এবং গুরুতর অক্ষমতা সৃষ্টি করে।
এক সময় লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস বাংলাদেশের একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা ছিলো। ২০০১ সালে দেশটি লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল করার জন্য তার জাতীয় কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করে। কাজ শুরু হয় ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৯টিতে। ২০০১ এবং ২০১৫ এর মধ্যে, এসব জেলায় প্রচারণা চালানো হয়। পাশাপাশি, ২০১১ এবং ২০২১ সালের মধ্যে সুপ্রশিক্ষিত কর্মসূচির কর্মীদের দ্বারা পদ্ধতিগত এবং উচ্চ-মানের সংক্রমণ মূল্যায়ন জরিপ করা হয়।
বাংলাদেশের অসুস্থতা ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবন্ধী প্রতিরোধ কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন আঞ্চলিক পরিচালক। এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে, ৩১ হাজারের বেশি রোগীকে স্ব-যত্ন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং তাদের রোগের অবস্থা পরিচালনা করতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য কিট সরবরাহ করা হয়।
লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূলের জন্য ডব্লিউএইচও’র কৌশল, দু’টি মূল উপাদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে; প্রথমত, সংক্রমণের উপস্থিতি রয়েছে এমন একটি অঞ্চল বা অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ সমগ্র জনসংখ্যার বড় আকারের বার্ষিক চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, বর্ধিত রোগ ব্যবস্থাপনা এবং অক্ষমতা প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস (গোদ রোগ)-এর কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ কমানো।
বৈধতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ ডব্লিউএইচওর কাছে একটি ডসিয়ার জমা দিয়েছে; যা একটি আঞ্চলিক ডসিয়ার পর্যালোচনা গ্রুপ দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়। ডসিয়ারটি পরীক্ষা করার পর, আঞ্চলিক ডসিয়ার রিভিউ গ্রুপ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসাবে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূলের বৈধতার জন্য বাংলাদেশকে সুপারিশ করে।
ডা. ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, “দৃঢ় অংশীদারিত্ব, নজরদারি পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প এবং সু-প্রশিক্ষিত কর্মী বাংলাদেশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূলের পর, এর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদাহারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।”