অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দেশব্যাপী ১৯, ২০, ২৬ ও ২৭ মে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ তাদের ১০ দফা দাবি আদায়ে বিএনপিসহ অন্যান্য সমমনা বিরোধী দলগুলো ১৯, ২০, ২৬ ও ২৭ মে দেশব্যাপী সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।
ফখরুল বলেন, আগামী ১৯ মে ঢাকা মহানগর উত্তর, ২৮টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর, ২০ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ২১টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরীতে কর্মসূচি পালন করা হবে।
এছাড়া ২৬ মে ঢাকা মহানগর উত্তর, ১৯টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর এবং ২৭ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ১৫টি সাংগঠনিক জেলায় কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
সরকারকে সর্তক করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানলে সামনে ‘রাজনৈতিক ঝড়’ আসবে। তিনি বলেন, ‘‘ ঝড় আসছে, উত্তাল সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসছে এই বাংলাদেশের বুকে…। আজকে ঝড় শুধু প্রাকৃতিক ঝড় আসছে সেটা মনে করার কারণ নেই। আজকে রাজনৈতিক ঝড়ও আসছে। এই রাজনৈতিক ঝড় এদেশের মানুষের হৃদয় থেকে নিতসারিত হয়ে তা সমস্ত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনারা অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্ববধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন…গণতন্ত্রকে লক্ষ্য করে। একথা আমরা বার বার বলেছি, আবারো বলছি-পদত্যাগ চাই। যদি সেইভ এক্সিট চান তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে একটা ‍সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।”
বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘আজকের সমাবেশ প্রমাণ করে এদেশের মানুষ এই সরকারের বিদায় চায়। এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে লুটপাট করে, দুর্নীতি করে, অর্থ পাচার করে দেশকে ধবংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।...আজকে বাংলাদেশকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষ তার ভোটের অধিকার চায়। ”
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ইদানিং একটা কথা বেশি করে বলছেন যে, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, তারা ভিন্ন পথে ক্ষমতায় আসতে চায়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি ভিন্নপথে ক্ষমতায় আসার কথা কখনো চিন্তাও করে না, কখনো ভিন্নপথে ক্ষমতায় আসেও নাই। জনগন আজকে এটা বুঝে জানে যে, আপনারাই(আওয়ামী লীগ) ভিন্ন পথে ক্ষমতায় পাকাপোক্ত করতে চান। জনগন এও বুঝে গেছে যে, মানুষ যখন চরম দুর্ভোগে তখন ৪৮ বছর পর কেনো জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মামলা করা হয়েছে।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা আগামী দিনে ভোট চুরির জন্য দেশে-বিদেশে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। মিথ্যাচার করে বিদেশীদের গ্রহনযোগ্যতা আদায়ের অপচেষ্টা করছে। যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক হয়নি। কিন্তু সরকার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে দিয়ে একটি মিথ্যা প্রেসরিলিজ প্রচার করেছে যা সঠিক নয়।”

ওদিকে সোমবার, ৯ মে, বিশ্বাঙ্গণে শেখ হাসিনার উচ্চাসন ও তার সরকারের প্রতি সমর্থন অনুধাবনে ব্যর্থ হলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিশ্বাঙ্গণে শেখ হাসিনার উচ্চতা আর তার সরকারের প্রতি সমর্থন কোন জায়গায় সেটি নিশ্চয়ই বিএনপি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। সেটি না করতে না পারলে বিএনপি ভুল করবে।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, "এই সফরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচন করার ঐকান্তিক ইচ্ছার কথা এবং সকল পর্যবেক্ষককে নির্বাচন দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর সেই সময় বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিচ্ছে। নির্বাচন প্রতিহত করার বা বর্জনের ঘোষণা গণতন্ত্রকে প্রতিহত করা বা ঠেকিয়ে দেওয়ার ঘোষণার মতো।"

তথ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা অবশ্যই চাই বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বিএনপি অতীতের মতো নির্বাচন থেকে পালিয়ে বেড়াক সেটি আমরা চাই না। আমরা বিএনপির সঙ্গে খেলতে চাই, কিন্তু ওরা খেলা থেকে বারবার পালিয়ে যায়; এটা দুঃখজনক।"

XS
SM
MD
LG