অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে লাখ লাখ শিশু ঝুঁকিতে—ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল


মোখার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে এক কিশোরী।
মোখার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে এক কিশোরী।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় মোখা লাখ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত শিশু এবং পরিবারের জীবনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অনেকেই ইতিমধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। এমনকি ঝড়ের সবচেয়ে খারাপ সময় পেরিয়ে গেলেও, ভূমিধসের ঝুঁকি বেশি থাকে এবং সামনের দিনগুলোতে পানিবাহিত রোগসহ আরও বিপদ বাড়তে পারে।

বুধবার (১৭ মে) ইউনিসেফের (জাতিসংঘের শিশু তহবিল) নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এই মন্তব্য করেছেন।

ঘূর্ণিঝড় মোখা ররিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় প্রায় বিকেল ৩টায় বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এবং মিয়ানমারের উপকূলে আঘাত হানে।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু শিশু এবং পরিবার আবারও একটি সংকটের তীক্ষ্ণ প্রান্তে রয়েছে। যা তাদের সৃষ্ট নয়। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যেই সংঘাত, দারিদ্র্য, অস্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু সংকট, পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে সম্প্রদায়গুলো বসবাস করছে”।

তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা জরুরিভাবে এই ঘূর্ণিঝড়ের পরে শিশুদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের মূল্যায়ন এবং প্রতিক্রিয়া জানাই, সেহেতু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, শিশুদের ও তাদের পরিবারের জীবন বাঁচাতে ও উন্নত করার সর্বোত্তম উপায় হলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করা”।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরের আবাসস্থল বাংলাদেশের কক্সবাজারে। যেখানে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবল ঝড়ের কবলে পড়েছে। যাদের অর্ধেকই শিশু। শরণার্থী শিবিরগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে আঁটসাঁট জায়গাগুলোর মধ্যে স্থাপিত হয়েছে। যা শিশুদের রোগ, অপুষ্টি, অবহেলা, শোষণ ও সহিংসতার জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রকাশ করে। শিবিরগুলোও ভূমিধসের প্রবণ এবং শিশুরা ভঙ্গুর অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা ২০১৯ সালের গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় ফণীর সঙ্গে উত্তর ভারত মহাসাগরে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসাবে যুক্ত হয়েছে।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি দেখেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের সময় মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এই অগ্রগতিকে হুমকি দিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ঝড়ের ক্রমবর্ধমান ফ্রিকোয়েন্সি ও তীব্রতা আগামী দশকগুলোতে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি করবে। কক্সবাজার ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেও, হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শরণার্থীদের দেওয়া বেশ কিছু অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো বন্যায় প্লাবিত এবং প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই দেশের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় সময়মতো এবং জরুরি মানবিক প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইউনিসেফ মাঠে রয়েছে, প্রয়োজন মূল্যায়ন করছে এবং জরুরি ত্রাণ প্রদান করছে। ক্ষতিগ্রস্থ লক্ষাধিক লোকের মধ্যে অনেকেই উদ্বাস্তু বা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি), শিবিরে এবং নাগালের কঠিন এলাকায় দুর্বল কাঠামোগত আশ্রয়ে বসবাস করে। তারা খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সুরক্ষার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। বিশেষ করে মিয়ানমারে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ১৬ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ, এর মধ্যে ৫৬ লাখ শিশু, রোহিঙ্গা, জাতিগত রাখাইন এবং অন্য সম্প্রদায়ের ১২ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোকসহ রাখাইন রাজ্যে ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চীন রাজ্য এবং সাগাইংসহ ম্যাগওয়ে অঞ্চল অবস্থানগুলো ঘূর্ণিঝড়ের পথে ছিল। এলাকাগুলো নিচু এবং বন্যার ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, মূলত বিঘ্নিত পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা এবং গাছপালা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে কিছু রাস্তার দুর্গমতার কারণে মিয়ানমারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের মূল্যায়ন চ্যালেঞ্জিং। তবে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝড়ের শিকারদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

XS
SM
MD
LG