বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার সাত মসজিদ রোডে গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২১ মে) সকালে ধানমন্ডির ‘সাত মসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি নাগরিক প্লাটফরমের অন্তত দুইশ’ সমর্থক এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। উন্নয়নের নামে ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে ডিএসসিসি কর্তৃক গাছ কাটার প্রতিবাদে, শনিবার (২০ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দোয়েল চত্বরে সমবেত হন আন্দোলনকারীরা। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। সকাল সাড়ে ১১টায় দোয়েল চত্বর থেকে নগর ভবনের দিকে যাত্রা করে বিক্ষোভকারীরা।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পিওবিএ) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, তারা রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার বঙ্গবাজার মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদেরকে সামনে এগোতে বাধা দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয় এবং ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানায়।
বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বঙ্গবাজার মোড়ে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “সাত মসজিদ রোড এলাকায় উন্নয়নের সুবিধার্থে গাছ কাটা হয়েছে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য প্রকৃতি কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মিজানুর রহমান বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের দাবি মেয়র তাপস-কে জানানো হবে।
তবে, ডিএসসিসি বিক্ষোভকারীদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়। তারা গাছ কাটা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে আজকের মতো বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে। এ বিষয়ে আগামীকাল বিক্ষোভকারীদের একটি প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।
তাদের দাবিগুলো হলো; সাত মসজিদ রোডসহ জনসাধারণের চলাচলের এলাকায় উন্নয়নের নামে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে, কাটা গাছের জায়গায় বৈচিত্র্যময় ও দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করতে হবে; জনগণের করের টাকায় একবার গাছ লাগানো এবং আরেকবার গাছ কেটে আবার ‘উন্নতমানের দ্রুত বর্ধনশীল’ গাছ লাগানোর নতুন প্রকল্প গ্রহণের নামে গাছ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে; বৃক্ষ ও নগরবাসীবান্ধব সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে নগরের গাছ ও সবুজ বলয় সুরক্ষা করতে হবে; ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কসহ সব জনপরিসরে উন্নয়নের নামে যখন-তখন গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। নগর উন্নয়নে প্রকৃতিভিত্তিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।