অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের মণিপুরে দাঙ্গায় ছিনতাই অস্ত্র ফেরত পেতে মন্ত্রী বাড়ির সামনে বসালেন ‘ড্রপ বক্স’


ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর গত দু’দিন ধরে শান্ত। শনিবার ১০ জুন সকালে গোলমালের পর আর নতুন করে অশান্তির খবর নেই। গত ৩ মে দুই জনজাতির মধ্যে হিংসা শুরুর পর থেকে এত লম্বা সময় শান্ত থাকেনি পার্বত্য রাজ্যটি। শনিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১০৫। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। আশ্রয় শিবিরে আছেন ঘরছাড়া প্রায় ৪০ হাজার পরিবার। নতুন করে হিংসা না ছড়ালেও চাপা উত্তেজনা আছে। প্রশাসন তাই এখনই ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করছে না। আপাতত ১৫ জুন পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না মণিপুরবাসী।

এদিকে, রাজ্যের এক বিজেপি মন্ত্রী শান্তি ফেরাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। এন বীরেন সিংহের মন্ত্রিসভার প্রবীণ মন্ত্রী এল সুশীন্দ্র মেতেই তাঁর পূর্ব ইম্ফলের কুরাইয়ের বাড়ির সামনে প্রায় চার ফুট লম্বা একটি বাক্স বসিয়েছেন। বাক্সের গায়ে লেখা ‘ছিনতাই হওয়া অস্ত্র এখানে নির্ভয়ে জমা করুন।’ মন্ত্রী জানিয়েছেন, "অস্ত্র ফেরৎ দিতে এলে কেউ নাম-ঠিকানা জানতে চাইবে না। ছবিও তুলবে না। নির্ভয়ে শুধু অস্ত্রটি জমা দিয়ে দিন।"

মন্ত্রী সুশীন্দ্রর এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনিকমহলে দু ধরনের প্রতিক্রিয়াই আছে। রাজ্য সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্ত্রী-বিধায়কদের বলেছিলেন, শান্তি ফেরাতে রাজ্য প্রশাসনের পাশে থাকতে। তারপরই বিজেপি মন্ত্রীর এমন উদ্যোগ।

আসলে ৩ মে জনজাতিদাঙ্গা শুরুর পর মণিপুরের একাধিক থানা এবং অসম রাইফেলস-এর দুটি ব্যারাকে হামলা চালায় জঙ্গিরা। কুকি ও মেইতেইরা একে অপরের দিকে আঙুল তোলে এই ঘটনায়। সরকার ঘোষণা করে মোট চার হাজার আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাই করেছে জঙ্গিরা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ গোলা-বারুদ তো আছেই।

এই ঘটনায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও চিন্তায় পড়েছে। এত বিপুল অস্ত্র জঙ্গিদের হাতে থাকার অর্থ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। বরং জঙ্গি সন্ত্রাস বেড়ে যাবে।

সেই কারণে সেনা এবং আধা সেনা ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে। কিন্তু প্রবল প্রতিরোধের মুখে তারা খুব একটা সফল হয়নি। এখনও পর্যন্ত মাত্র আটশো অস্ত্র উদ্ধার করা গিয়েছে। তার মধ্যে দেড়শ-র মতো অস্ত্র হামলাকারীদের একাংশ গ্রেফতার না করার শর্তে ফেরৎ দিয়েছে প্রশাসনের হাতে। জানা গিয়েছে মন্ত্রীর ড্রপ বক্সেও জমা পড়েছে শ-দেড়েক অস্ত্র।

মন্ত্রী সুশীন্দ্র এই উদ্যোগ নেওয়ার আগে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের বিশিষ্টজন এবং ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সকলের মত নিয়ে নিজের বাড়ির সামনে ড্রপ বক্স বসিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ, মন্ত্রী তথা একজন রাজনীতিক ছিনতাই হওয়া অস্ত্র ফেরতের সঙ্গে সরাসরি ব্যক্তিগত উদ্যোগে যুক্ত হতে পারেন কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ, সরকার অস্ত্র সম্বরণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সেটি একটি সরকারি প্রক্রিয়া। লিখিতভাবে সমস্ত কিছু হয়ে থাকে। মন্ত্রীর ড্রপ বক্সে কে, কোন এলাকা থেকে অস্ত্র জমা করল তা জানার সুযোগ থাকছে না। তাছাড়া অস্ত্র জমা করার সময় অশান্তি বেঁধে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

XS
SM
MD
LG