অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের ৩ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ; বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা


বাংলাদেশের ৩ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ; বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা
বাংলাদেশের ৩ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ; বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা
বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বর্ষার আগমন ঘটলেও তাপপ্রবাহ পিছু ছাড়ছেনা। শুক্রবার ( ১৬ জুন) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে।সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ১১৬ মিলিলিটার। বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে সিলেটে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের তিন জেলায় চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে রয়েছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। শুক্রবার রাজশাহীতে ছিলো দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার (১৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়।

তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, খুলনা বিভাগসহ রাজশাহী বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও দিনাজপুর জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দেশের অন্যত্র সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে যে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে।

এদিকে, ঝড়-বৃষ্টি বিষয়ক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এতে আরো বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১১৬ মিলিলিটার রেকর্ড করা হয় সিলেটে।

সিলেটে অবিরাম বর্ষণ, আবার বন্যার আশঙ্কা

গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ধকল যেতে না যেতেই, বাংলাদেশের সিলেটে আবার বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। এই বৃষ্টি আরো ১৫ দিন অবহ্যাত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এছাড়া, ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। ফলে ঢল নামে আসছে সমতলের দিকে। ঢল আর বৃষ্টিতে সিলেটের নদনদীর পানি বাড়ছে। অনেক নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। ঢল আর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে, চলতি সপ্তাহেই মাঝারি ধরনের বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে, উজানের ঢলে ইতোমধ্যে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে এবং পানি ঢুকছে বিভিন্ন হাওরে এছাড়া বাড়ছে নদীর পানি। শুক্রবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে।

বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিফ আহমেদ জানান, “নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সামান্য বাড়লেই তা অতিক্রম করবে। একই সঙ্গে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে।” শুক্রবার সিলেটে ১৩৫ মিলিমিটার এবং এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এর আগে, গতবছর সিলেটে ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে তলিয়ে গিয়েছিলো সিলেটের ৭০ শতাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার প্রায় সব মানুষ। বন্যায় ভেঙে যায় প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি। গতবারের বন্যার ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি সিলেটবাসী।

সিলেটের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টা সিলেটে ভারী বৃষ্টির আশঙ্ক রয়েছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।”

বন্যার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসন জরুরি সভা করে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।

XS
SM
MD
LG