অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে সুরমা নদী, সুনামগঞ্জে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত


বাংলাদেশের সিলেটে শেষ সম্বল টুকু নিয়ে নৌকায় চড়ে আশ্রয় খুঁজছে বন্যা দুর্গত মানুষ। (ফাইল ছবি)
বাংলাদেশের সিলেটে শেষ সম্বল টুকু নিয়ে নৌকায় চড়ে আশ্রয় খুঁজছে বন্যা দুর্গত মানুষ। (ফাইল ছবি)

টানা চার দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে সুরমা নদীর জলপ্রবাহ।সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদ সীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওড় এলাকার অন্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।এর ফলে, প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল; ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ যোগাযোগ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুল হাওলাদার বলেন, “সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে অন্য নদ-নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছি আমারা।”

বরিবার (২জুলাই) সকালে শেষ হওয়া ২৪ ঘন্টায় ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এসময় যাদুকাটা, চলতি খাসিয়ামারা, চেলা, মনাই, সোমেশ্বরীসহ সব পাহাড়ি নদীর পানি বেড়েছে।এর ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা ।

সুনামগঞ্জ শহরেরে সাহেববাড়ি ঘাট, কাজির পয়েন্ট, নবীনগর, হাছননগর, নতুনপাড়ায় পানি ঢুকেছে।বিভিন্ন সড়ক ডুবে যাওয়ায় হু-হু করে ঢলের পানি ডুকছে হাওর ও নদ-নদীতে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে বন্যা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

তাহিরপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বাদাঘাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের রাস্তঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের তোড়ে কাঁচা সড়কগুলোর বেশ ক্ষতি হয়েছে। মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ জানান, “বৃষ্টি বাড়লে ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।”

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, “প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। তবে এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।” সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা পারভীন বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। তবে এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।”

এদিকে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রবিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। রবিবারের আবহাওয়া পূর্বাভাস বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। শনিবার (১ জুলাই) বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইলে, ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

XS
SM
MD
LG