অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ঢাকার বাইরেও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে পানি পরিশোধন ও পয়ঃশোধনাগার ব্যবস্থা চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এর জন্য আপনাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। একটা মডেল তৈরি করে আমরা যদি স্থানগুলো নির্বাচন করতে ও নির্মাণকাজ শুরু করতে পারি … আমরা তা বাস্তবায়নে সফল হব”।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরের কাছে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

পয়ঃশোধনাগারটি বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক এসটিপি (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট)। এটি ৫০০ মিলিয়ন লিটার পয়োনিষ্কাশন করার ক্ষমতাসম্পন্ন।

পয়ঃশোধনাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) সহায়তায় পাগলা স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “সরকার ইতিমধ্যে আমার গ্রাম, আমার শহর ঘোষণা করেছে। যেখানে কোনো গ্রাম পিছিয়ে থাকবে না, প্রতিটি গ্রাম পাবে শহরের মতো সুবিধা”।

বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে পানীয় জল সরবরাহ শুরু করেছি। এই উদ্যোগকে টেকসই করতে আমাদের একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে”।

এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পানি ও বিদ্যুত ব্যবহারেও জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “অপ্রয়োজনে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন না, অনুগ্রহ করে এগুলো ব্যবহারে মিতব্যয়ী হন। আপনারাও এতে উপকৃত হবেন, কারণ এতে বিল কম আসবে”।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা ওয়াসা একটি সেবামুখী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। “নাগরিক সেবা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য আমি ঢাকা ওয়াসাকে আরও সক্রিয় হতে বলছি”।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং ঢাকার রামপুরা খাল, বালু নদী এবং শীতলক্ষ্যা নদীসহ অন্য জলাশয়ের পানির গুণগত মান উন্নয়নে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্লান্টটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন ছাই উৎপন্ন হবে। এই ছাই সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও, নিকেতন, বাড্ডা, বনানী, গুলশান (আংশিক), রমনা, ইস্কাটন, নয়াটোলা, মগবাজার, ওয়্যারলেস, মৌচাক, আউটার সার্কুলার রোড, মহানগর হাউজিং, হাতিরঝিল, কলাবাগান ও ধানমন্ডি (আংশিক) এলাকা থেকে আসা পয়ঃবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন যে ২ হাজার মিলিয়ন লিটার বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার ২০-২৫ শতাংশ শোধন করতে পারবে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারে।

মঙ্গলবার ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান সাংবাদিকদের বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ঢাকায় উৎপাদিত পয়ঃবর্জ্য শতভাগ পরিশোধনের জন্য ৫টি এসটিপি নির্মাণের জন্য ওয়াসার গৃহীত মাস্টার প্লানের অংশ হিসেবে এই প্লান্টটি নির্মাণ করা হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরের শতভাগ পয়ঃনিষ্কাশন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে পাগলা, রায়েরবাজার, উত্তরা ও মিরপুরে আরও ৪টি আধুনিক সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হবে। পাগলা সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি সম্পন্ন হলে ঢাকায় উৎপাদিত প্রায় ৪০ শতাংশ পয়ঃবর্জ্য শোধন করা যাবে।

৩ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ একর জমির ওপর দাশেরকান্দি এসটিপি বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এসেছে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ঢাকা ওয়াসা থেকে এসেছে ১০ কোটি টাকা এবং চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে এসেছে ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

২০১৮ সালের ১ জুলাই চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। এক বছরের জন্য প্লান্টটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করে এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাইড্রোচায়না করপোরেশন।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, রামপুরা সেতুর পশ্চিম পাশে একটি বর্জ্য উত্তোলন স্টেশন, রামপুরা থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার ট্রাঙ্ক স্যুয়ার লাইন ও দাশেরকান্দি প্লান্ট এবং দাশেরকান্দিতে প্রধান শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে।

XS
SM
MD
LG