অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণ ৯৫ হাজার টাকা—বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন


বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৭ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (ডলারের বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী)। এর বাইরে দেশের অভ্যন্তরে সরকারের ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ১৫ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে সরকারের ঋণ ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। এ হিসাবে জনগণের মাথাপিছু ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ১৯ টাকা।

বাংলাতেশ ব্যাকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জনগণের আয় অবশ্য এখনো মাথাপিছু ঋণের চেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের জনগণের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৯৩ ডলার। সরকারি বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকা।

অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ইউএনবিকে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ঋণ ও জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো ভালো অবস্থানে। কিন্তু ঋণের সুদ পরিশোধ করতে জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আয় বেশি হলেও রাজস্ব সংগ্রহ কম হওয়ার কারণে ঋণের ঝুঁকি এখন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বাণিজ্য ঘাটতির কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ায় সরকারের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ঋণ ও জিডিপির অনুপাত বিবেচনায় এটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে একটি সমস্যা হলো রাজস্ব আয়ে ধীরগতি এবং দেশের সর্বনিম্ন কর ও জিডিপির অনুপাত”।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়গুলো হলো—বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, অলস ঋণের উচ্চহার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রবণতা।

XS
SM
MD
LG