অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যানের সর্বসাম্প্রতিক চিঠি সমালোচনার মুখে


জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়।
জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে কংগ্রেসম্যান বব গুড এবং তার ১৩ জন সহকর্মীর সাম্প্রতিক চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় "পক্ষপাতদুষ্ট" বিষয়বস্তুর জন্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমালোচকরা বলেছেন, বিবৃতিতে করা দাবিগুলি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, ঠিক আগেরটির মতো যা বিশিষ্ট অধিকার কর্মীরা প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাংলাদেশের স্থগিতাদেশের প্রথম দাবি হল ২০২২ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের পক্ষে বিশাল ভোটের প্রতি নিছক অবহেলা।

২০২৩-২৫ মেয়াদে ইউএনএইচআরসি-এর সদস্যপদ অর্জন করে বাংলাদেশ ১৮৯টি ভোটের মধ্যে ১৬০টি ভোট পেয়েছে।

চিঠিতে রেফারেন্স হিসাবে একটি বিদেশী সংস্থা এফআইডিএইচ যুক্ত করা হয়েছে তবে সমালোচকরা বলেছেন যে বাস্তবতা হল “অধিকার” হল এফআইডিএইচ-এর সদস্য সংস্থা – অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে অধিকার গোষ্ঠীর ‍ভূয়া তথ্য দেয়ার রেকর্ড দীর্ঘদিন ধরে প্রমাণিত হয়েছে।

ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ চিঠির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইটে বলেছে,"কংগ্রেসম্যান, আমি ভেবেছিলাম যে আপনি মূলধারার সুশীল সমাজ এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলি সহ বাংলাদেশের বিষয়ে আপনার শেষ চিঠিতে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, তার পরে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে আপনাকে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে লবিং করতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।”

তিনি আর বলেন, "মূলত একটি পক্ষপাতমূলক গোষ্ঠীর কথা বলার পয়েন্টগুলি পুনরাবৃত্তি করে, আপনি মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পক্ষ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে এবং মুসলিম ব্রাদারহুড-অনুষঙ্গী জামাত ই-ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামপন্থীদের মতো দলগুলির সাথে একটি শিবিরকে উত্সাহিত করছেন৷"

চিঠিতে গুড এবং তার সহকর্মীরা, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য অবিলম্বে জাতিসংঘের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সেই চিঠিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে র‌্যাব এর রেকর্ডের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তি অপারেশন বিভাগকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কোন সদস্যকে আপাতত গ্রহণ না করার দাবি জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান গুড টুইটে বলেছেন, "বাংলাদেশের জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার রাখে। আমি আমার ১৩ সহকর্মীর সাথে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি পাঠিয়েছি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।"

এর আগে, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এবং আর্চবিশপ ইমেরিটাস প্যাট্রিক ডি'রোজারিও সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা, শিক্ষাবিদ এবং যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রচারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানকে উল্লেখ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থাকে "সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রক্ষেপণ" বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশী আইন প্রয়োগকারী এবং সামরিক কর্মীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার জন্য "যথাযথ ব্যবস্থা" নিতে আবেদেন করেছেন।

তারা একে "বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি" বলে অভিহিত করেছেন।

XS
SM
MD
LG