অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাগেরহাটে গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে জলবন্দী সহস্রাধিক মানুষ


বাগেরহাটে গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে জলবন্দী সহস্রাধিক মানুষ
বাগেরহাটে গ্রাম রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে জলবন্দী সহস্রাধিক মানুষ

বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার ভৈরব নদের গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে তিনটি গ্রাম। এতে জলবন্দী হয়েছেন তিন উপজেলার এক হাজারের বেশি মানুষ। শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরের জোয়ারে পানির চাপে ভদ্রপাড়া পয়েন্টে গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যায়। তখন মুহূর্তেই ভৈরব নদের পানিতে প্লাবিত হয় ভদ্রপাড়া, বৈটপুর ও বেমরতা গ্রাম। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও মোংলার বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে বহু মাছের ঘের এবং বেশকিছু পুকুর। প্লাবিত গ্রামগুলোর বাড়িঘর ও রান্না ঘরে পানি উঠেছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ভদ্রপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি ঘের মালিক মশিউর রহমান বাদশা বলেন, “দুপুরে জোয়ারের পানির চাপে গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ঢোকে। পানিতে আমার তিনটি মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। গ্রামবাসী আলমগীর হোসেন বলেন, “জোয়ার ও বৃষ্টিতে বাড়ির আঙ্গিনায় হাটু পানি জমে রয়েছে। রান্না-বান্না বন্ধ। পুকুর, রান্নাঘর, উঠোন, বাগান সব জলের নিচে একাকার হয়ে আছে।”

বয়োজেষ্ঠ্য আয়াতুন্নেছা বেগম জানান, “জোয়ারের পানিতে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। সব জায়গায় পানি, আমাদের দুর্ভোগ কোনভাবে কমছে না।”

ভদ্রপাড়া, বৈটপুর ও বেমরতা ছাড়াও; সদর উপজেলার হাড়িখালি, মাঝিডাঙ্গা; মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঘষিয়াখালী, বহরবুনিয়া, সানকিভাঙ্গা, খাওলিয়া, গাবতলা; মোংলার জয়মনির ঘোলসহ বেশকিছু এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “দড়াটানা ও ভৈরব নদীর পানি বিপদ সীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, জেলার বিভিন্ন নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর যেসব এলাকায় বেরিবাঁধ নেই, সেসব এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়েছি।”

সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর বুলেটিনে বলা হয়, সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

XS
SM
MD
LG