অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চট্টগ্রামে অস্ত্র কারখানার সন্ধান—সরঞ্জামসহ ২ জন গ্রেপ্তার


চট্টগ্রামে অস্ত্র কারখানার সন্ধান—সরঞ্জামসহ ২ জন গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে অস্ত্র কারখানার সন্ধান—সরঞ্জামসহ ২ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বুধবার (২৩ অগাস্ট) সকালে র‌্যাব ৭–এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, সেখানে অভিযান চালিয়ে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি জব্দ এবং অস্ত্র কারখানার মালিকসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ২ জন হলেন—কারখানা মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগী মো. ইমন (২৪)।

এর আগে মঙ্গলবার র‌্যাব গোপন খবরের ভিক্তিতে জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল পাথরিঘোনা দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাগান বাড়ির টিনের দোচালা ঘরের ভেতর থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে সদ্য প্রস্তুত করা ৩টি দেশীয় বন্দুক, একটি রাম দা এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।

র‌্যাব ৭–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক মিডিয়া তাপস কর্মকার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্গম পাহাড়ের ভেতরে কতিপয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের কারখানা স্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি করে স্থানীয় জলদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী এবং ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ৭–এর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে ২ জনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়।

তাপস কর্মকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ২ জন জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে স্থানীয় জলদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী এবং ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে বিক্রয় করে আসছে।

স্থানীয় সূত্রমতে ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার ২ জন ৭-৮ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার দৃষ্টি এড়াতে মাঝে মাঝে লোক দেখানো কৃষি কাজ করত।

গ্রেপ্তার মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য আইন সংক্রান্তে ৮টি মামলা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‌্যাব

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ৭ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

XS
SM
MD
LG