অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চীন মানচিত্রে বিতর্কিত অঞ্চলকে নিজ ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করায় ভারতের প্রতিবাদ


মানচিত্রে চীন ও ভারতের বিতর্কিত সীমানা দেখা যাচ্ছে
মানচিত্রে চীন ও ভারতের বিতর্কিত সীমানা দেখা যাচ্ছে

মঙ্গলবার ভারত বলেছে বেইজিং আকসাই চিন (কাশ্মীরের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ চীনের দখলে) ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে চীনের নিজস্ব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে তাদের প্রথাগত মানচিত্রের ২০২৩ সালের সংস্করণ প্রকাশের ১ দিন পর তারা চীনের কাছে “জোরালো প্রতিবাদ” জানিয়েছে।

সোমবার এই মানচিত্রটি চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রকের প্রথাগত মানচিত্র সেবা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর কয়েকদিন আগেই ২ দেশ তাদের বিতর্কিত সীমান্তের অস্থিরতা কমানোর জন্য কাজ করতে একমত হয়।

এ মানচিত্রে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরকেও চীনা ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক ঘোষণা দেয়, তারা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “আমরা আজ চীনা পক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে চীনের এই তথাকথিত ২০২৩ সালের ‘প্রথাগত মানচিত্রের’ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি, যেখানে ভারতের ভূখণ্ডের ওপর দাবি জানানো হয়েছে।”

গত সপ্তাহেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের নেতা শি জিনপিং দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনে দেখা করেন এবং সীমান্তে অস্থিরতা কমানোর জন্য “উদ্যোগ বাড়ানোর” বিষয়ে একমত হন। ঐকমত্যের বিষয়টি উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের একটি বড় ধাপ হিসেবে জানানো হয়।

পারমাণবিক ক্ষমতাধর ভারত ও চীনের সীমান্ত সঠিক ভাবে চিহ্নিত হয়নি। দেশ ২টি একে অপরের ভূখণ্ডের প্রতি সাংঘর্ষিক দাবি জানিয়ে আসছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি নামে এই বিতর্কিত সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার যা উত্তর-পশ্চিমের লাদাখ থেকে উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

দুর্গম, রুক্ষ ও বরফে ঢাকা হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সীমান্ত কখনোই ভারতের সাবেক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা সঠিকভাবে চিহ্নিত করেনি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ভারত ও চীন এ বিষয়টি নিয়ে একমত হতে না পারায় সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক আজও অব্যাহত রয়েছে।

XS
SM
MD
LG