অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কয়েকশো কোটি ডলারের খনি-চুক্তি স্বাক্ষর করল তালিবান

খনি ও পেট্রোলিয়াম বিষয়ক তালিবানী মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন দিলাওয়ার চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে খনি-চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। কাবুল, আফগানিস্তান। ৩১ আগস্ট, ২০২৩। (ভিওএ মারফত তালিবান তথ্য দফতর)
খনি ও পেট্রোলিয়াম বিষয়ক তালিবানী মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন দিলাওয়ার চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে খনি-চুক্তি স্বাক্ষর করছেন। কাবুল, আফগানিস্তান। ৩১ আগস্ট, ২০২৩। (ভিওএ মারফত তালিবান তথ্য দফতর)

আফগানিস্তানের তালিবান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, তারা চীন, ইরান, তুরস্ক ও ব্রিটেনের কোম্পানিগুলির সাথে ৬৫০ কোটি ডলার মূল্যের খনি-চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

খনি ও পেট্রোলিয়াম বিষয়ক তালিবান মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন দিলাওয়ার বলেন, সাতটি চুক্তির মধ্যে রয়েছে, আফগানিস্তানের চার প্রদেশ যথা তাখার, ঘোর, হেরাত ও লোগার থেকে সোনা, তামা, লোহা, সীসা ও দস্তা উত্তোলন ও তার প্রক্রিয়াকরণ ঘটানো।

এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। আফগান কর্তৃপক্ষ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নেটো সৈন্যদের প্রত্যাহারের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করে। তৎকালীন বিদ্রোহী তালিবানের সাথে প্রায় ২০ বছর যুদ্ধের পর এই সেনা-প্রত্যাহার করা হয়।

দিলাওয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই সাতটি চুক্তি আফগানিস্তানে “মোট ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ নিয়ে আসবে এবং হাজার হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি করবে।”

এই মন্ত্রী জানান, তাখারে স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য একটি চীনা কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি তালিবান সরকারকে পাঁচ বছরের আয়ের ৬৫ শতাংশ এনে দেবে।

দিলাওয়ার বলেন, হেরাতে লোহা আকরিক খনন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য তুর্কি, ইরানী ও ব্রিটিশ বিনিয়োগ জড়িত অন্যান্য চুক্তিগুলি ৩০ বছরের মধ্যে সরকারকে ১৩ শতাংশ শেয়ার অর্জনে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, "এটি ধীরে ধীরে আফগানিস্তানকে লোহা রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করবে।"

২০২১ সালের আগস্টে তালিবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশটির উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ করে সংশয়বাদীরা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

"আফগানিস্তানের খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাবেক কর্মকর্তা তামিম আসি এক্স (ট্যুইটার)-এ লেখেন, "আফগানিস্তানের আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং খাত প্রায় অচল এবং অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই, কোনো আর্থিক লেনদেন বা এর মূল্য নেই।"

তার যুক্তি, এই ধরনের খনি-চুক্তি পরিচালনা ও তদারকি করার জন্য “প্রযুক্তিগত-আইনি-নীতিগত সক্ষমতার অভাব” রয়েছে আফগান মন্ত্রকের।

আসি বলেন, “খনি বিষয়ে আইনি ও নীতিগত পরিকাঠামো শুধু অস্পষ্টই নয়, প্রায় নেই বললেই চলে। এই শাসকের কোনও সংবিধানই নেই।“

এই বছরের শুরুতে, এক চীনা সংস্থা তালিবান প্রশাসনের সাথে একটি তেল উত্তোলন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বেইজিং ইদানীং আফগানিস্তানের লিথিয়াম খনিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG