অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কন্যার মৃত্যু-বার্ষিকীতে স্মরণসভার পরিকল্পনার কথা জানালেন মাহসা আমিনির বাবা

ফাইল-ইরানী পত্রিকা আন্দিশেহ হাতে নিয়ে এক ব্যক্তি। এই পত্রিকা মাহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। তেহরান, ইরান। ১৪ মার্চ, ২০২৩।
ফাইল-ইরানী পত্রিকা আন্দিশেহ হাতে নিয়ে এক ব্যক্তি। এই পত্রিকা মাহসা আমিনির মৃত্যু নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। তেহরান, ইরান। ১৪ মার্চ, ২০২৩।

মাহসা আমিনির বাবা ভিওএ-কে জানিয়েছেন, তাঁর কন্যার মৃত্যু-বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা আয়োজন করার ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২২ বছর বয়সী ইরানী নারী আমিনির পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল গত বছর। তারপর গোটা ইরান জুড়ে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আমিনির বাবা আমজাদ আমিনি ভিওএ-র পার্সিয়ান সার্ভিসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, “আমরা শহীদ, নিগৃহীত ও নিষ্পাপ মেয়ে ঝিনার (মাহসা) নাম ও স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। তাঁর পবিত্র আত্মার তৃপ্তির জন্যই এই আয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “এটা পরিবার, আত্মীয় ও তাঁর সকল সমর্থকদের শান্তি দেবে। তবে, বর্তমান এই পরিস্থিতিতে আমরা সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারব না বা এতে যোগ দিতে নিষেধ করব না।”

ঢিলেঢালাভাবে মাথার ওড়না পরার অভিযোগে মাহসা আমিনিকে আটক করেছিল ইরানের নীতি-পুলিশ। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বরে পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর পর ইরানে কয়েক মাস ধরে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির তথ্য অনুযায়ী বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী নারী ও শিশুসহ প্রায় ৬০০ মানুষকে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে এমন কয়েক হাজার মানুষ রয়েছেন যাঁদের বিক্ষোভ চলাকালীন ধরপাকড় ও নির্যাতন করা হয় এবং তাঁরা আজও সেই ক্ষত বহন করছেন। সেই বিক্ষোভের পর ২০ হাজারেরও বেশি ইরানীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছিল।

আমিনির বাবা ভিওএ-কে বলেন, “আজ, এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, মাহসা শুধু আমিনি পরিবারের নয়, তিনি ইরানের কন্যা। তিনি গোটা দেশের। যাঁরা মাহসাকে লালন করে চলেছেন তাঁরা তাঁর বর্ধিত পরিবারেরই আত্মীয়। এভাবে, মানুষ যা চাইবে আমরা তাকে সম্মান জানাব।”

This item is part of
XS
SM
MD
LG