অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে আহমদীয়াদের মসজিদে ক্রমবর্ধমান হামলা


ফাইল-পাকিস্তানের সিয়ালকোটে উন্মত্ত জনতা একটি আহমদী মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর রয়ে গেছে ধ্বংসাবশেষ। ২৪ মে, ২০১৮।
ফাইল-পাকিস্তানের সিয়ালকোটে উন্মত্ত জনতা একটি আহমদী মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর রয়ে গেছে ধ্বংসাবশেষ। ২৪ মে, ২০১৮।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় জনবহুল শহর লাহোরের ঘিঞ্জি এলাকা শাহদারা টাউন। এই মাসের শুরুর দিকে এক গরম ও আর্দ্র শুক্রবারে আহমদীদের মসজিদ ধ্বংস করতে মুসলিমদের আহ্বান করা হয় মসজিদ থেকে।

কয়েক ঘন্টা আগে, স্থানীয় কয়েকজন ধর্মগুরু পুলিশ ডেকেছিলেন। তাঁরা ওই মসজিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলেন, কারণ এটি এক ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মতো দেখতে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে সংখ্যালঘু আহমদীদের মসজিদের মিনার ও গম্বুজ গুঁড়িয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। পুলিশ নিষ্ক্রিয়ভাবে সেখানে দাঁড়িয়েছিল।

ঐ ভবনটি যখন ভাঙা হচ্ছিল তখন এর মধ্যে থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলেন, "আমাদের জন্য এটা খুব যন্ত্রণার মুহূর্ত।" তিনি বলেন, ভিওএ তাঁকে আহমদ নামেই চিহ্নিত করুক কেননা তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সন্ত্রস্ত ছিলেন।

পাকিস্তানি আহমদীরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না। তাঁরা বলেন, এই শুক্রবার হামলার ঢেউ আছড়ে পড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছিলেন। অথচ এই দিন গোটা দেশ ইসলামের নবী মহম্মদের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে।

চলতি বছরে উপাসনালয়ের উপর প্রায় তিন ডজন হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এই হামলার মধ্যে রয়েছে জোর করে ধর্মস্থানে প্রবেশ করা ও ভাঙচুর করা। এই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালের পর থেকে এই ধরনের ঘটনার নিরিখে এটাই সর্বোচ্চ। ওই বছর একটি আইন আরোপ করে বলা হয়, আহমদীরা নিজেদেরকে "প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুসলিম" হিসেবে দাবি করতে পারবে না।

১৯৭৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সংসদ দেশের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আহমদীদের অ-মুসলিম বলে ঘোষণা করে। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলির কয়েক মাসব্যাপী বিক্ষোভের পর এটি করা হয়।

১৮৯০ সালে আহমদী আন্দোলনের সূচনা হয় ভারতীয় উপমহাদেশে। এর প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গুলাম আহমদ নিজেকে ইসলামের প্রতীক্ষিত মসিহা ও নবী বলে দাবি করেন। তবে, মূলধারার মুসলিমরা বিশ্বাস করে, মুহম্মদের সঙ্গে নবুয়তের ধারা শেষ হয়ে গেছে।

XS
SM
MD
LG