অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব শান্তিপূর্ণ অঞ্চল তৈরি করতে পারে—পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন

১১তম বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংলাপ ২০২৩-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ৫ অক্টোবর, ২০২৩।
১১তম বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংলাপ ২০২৩-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ৫ অক্টোবর, ২০২৩।

যৌথ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কৌশলগত অংশীদারত্ব দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের মধ্যে সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে।

এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা ভাগ করে নেওয়া সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করি, তবে আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে”।

আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তারা শান্তির সংস্কৃতি প্রচারের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) ১১তম বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংলাপ ২০২৩-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। “নিঃসন্দেহে ভারত এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং বাংলাদেশ অবশ্যই নিজেকে এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে দাবি করতে পারে”।

তিনি বলেন, এই দুই প্রতিবেশীর অংশীদারত্ব এই দেশগুলোর পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে গুরুত্বপূর্ণ।

আব্দুল মোমেন বলেন, “আমরা আমাদের যাত্রায় ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা ও সহায়তা জোরদার করার ওপর জোর দিচ্ছি”।

আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একটি গোল্ডেন চ্যাপ্টার বা সোনালি অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিবেশী কূটনীতির জন্য রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগ, ট্র্যাক ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ একটি সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১০ বছর আগে শুরু হওয়া সংলাপটি গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ এটি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করার পথ প্রশস্ত করেছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, তারা একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিকে সমর্থন করার জন্য শক্তিশালী ভৌত অবকাঠামোসহ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। “আমাদের আকাঙ্খা হলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক, উন্নত দেশে রূপান্তর করা এবং আমাদের জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ এবং দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্ন পূরণ করা”।

আব্দুল মোমেন বলেন, তাদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ফোকাস করতে হবে। সেগুলো হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা; উন্নত সংযোগ; জ্বালানি সহযোগিতা; পানি খাতে সহযোগিতা ও জন-মানুষের মধ্যে যোগাযোগ।

আব্দুল মোমেন বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য, বিশেষ করে চিকিৎসা রোগীদের জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, ভারত সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল সার্ভে (বিএফআরএস) বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সংলাপ এবং সিলেট-শিলচর উৎসব—এই দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, গবেষক ও থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্যরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার উপায় ও উপায়ের ওপর আলোকপাত করবেন।

This item is part of
XS
SM
MD
LG