অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে বেসামরিক মানুষদের সরে যাওয়ার আদেশ বাতিল করতে ইসরাইলের প্রতি জাতিসংঘের আহ্বান

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সতর্কবাণীর পর ফিলিস্তিনিরা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে গাজা শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; ১৩ অক্টোবর ২০২৩।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সতর্কবাণীর পর ফিলিস্তিনিরা তাদের জিনিসপত্র নিয়ে গাজা শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; ১৩ অক্টোবর ২০২৩।

১১ লাখ বেসামরিক মানুষকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চল ছেড়ে দক্ষিণে চলে যাওয়ার জন্য যে দাবি ইসরাইল করেছে, তা প্রত্যাহার করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তারা বলেছে, এটি অসম্ভব এবং এর পরিণতি হবে বিধ্বংসী।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও পূর্ত সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, "এটি শুধুমাত্র নজিরবিহীন মাত্রার দুর্দশা সৃষ্টি করবে এবং গাজার জনগণকে আরো গভীর সংকটে ঠেলে দেবে।”

এক বিবৃতিতে লাজারিনি উদ্ভূত মানবিক সংকটের মাত্রা ও গতিকে “হাড় কাঁপানো” বলে বর্ণনা করেন। তিনি একই সাথে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “গাজা দ্রুত নরক-গর্তে পরিণত হচ্ছে এবং তা পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।”

লাজারিনি উল্লেখ করেন যে গত ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালানোর পর থেকে ৪ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে, ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ইউএনআরডব্লিউএ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, “সেখানে মর্যাদা ও আশার আলো বাঁচিয়ে রাখতে, মৌলিক খাদ্য, ওষুধ এবং আনুসাঙ্গিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ইসরাইলকে তাদের বেসামরিক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়ার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য জাতিসংঘের আবেদনে সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে "চলমান বিমান হামলার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের যাওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক ডব্লিউএইচওকে জানিয়েছে,উত্তরাঞ্চলের হাসপাতাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সরিয়ে নেয়া অসম্ভব। এসব রোগীর মধ্যে রয়েছে, মারত্মকভাবে আহত ব্যক্তি, শিশু, নবজাতক, যারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লাইফ সাপোর্ট-এ রয়েছে।

তিনি বলেন, “গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।সময় বয়ে যাচ্ছে, জ্বালানি, পানি, খাদ্য, জীবন রক্ষাকারী ও মানবিক উপকরণ সরবরাহ করা না গেলে, পুরোপুরি অবরোধের মধ্যে, মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে না।”

ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার সময় হামাস যে ১৫০ জন জিম্মিকে আটক করেছে, তাদের সবাইকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় অবরোধ তুলে না নেয়ার অঙ্গীকার করেছে ইসরাইল।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG