অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ পাঠানোর অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আগে রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টকের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের সামনে দৃশ্যমান রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা; (ফাইল ফটো) ২৪ এপ্রিল ২০১৯।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আগে রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টকের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের সামনে দৃশ্যমান রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা; (ফাইল ফটো) ২৪ এপ্রিল ২০১৯।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শনিবার তাদের ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে দৈনিক গোয়েন্দা হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলেছে, কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেন-গামী কোনো বাণিজ্য বন্ধ করা মোটেও রাশিয়ার সর্বোত্তম স্বার্থ বলে বিবেচিত হবে না।

হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার নৌবহরের সক্ষমতা 'অনেকাংশে অক্ষত' রয়েছে। তবে, ইউক্রেনীয় বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়া আক্রমণ করলে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে, আর, এটি "ভয়াবহ রাজনৈতিক পরিণতি" ডেকে আনতে পারে।ফলে বানিজ্য জাহাজ অবরোধ থেকে রাশিয়ার খুব একটা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে, ইউক্রেন সীমান্তের পাশ দিয়ে রাশিয়ায় অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ এনেছে। শুক্রবার গোলাবারুদ উত্তর কোরিয়া বা ডিপিআরকে এর একটি ডিপো থেকে গোলাবারুদ চালানের প্রকাশিত একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে এই দাবি করা হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে গোলাবারুদের চালানটি একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজে তোলা হচ্ছে যা পরে রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি ডিপোতে রেল গাড়িতে বহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই চালানটি, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে কোনো এক সময় পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক জন কার্বি শুক্রবার বলেন, “ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা, তাদের বেসামরিক নাগরিক হত্যা এবং রুশদের অবৈধ যুদ্ধে ব্যবহার করার লক্ষ্যে রাশিয়াকে এই সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য আমরা উত্তর কোরিয়ার নিন্দা জানাই।”

কার্বি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে “এক হাজারের বেশি কন্টেইনার সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে।”

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করার জন্য, এই অস্ত্রের বিনিময়ে অত্যাধুনিক রুশ অস্ত্র-প্রযুক্তি পেতে চাইছেন।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “রাশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ার কাছে যেকোনো প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে এই সম্প্রসারিত সামরিক অংশীদারিত্ব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে।”

তিনি উল্লেখ করেন যে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির জবাবে ওয়াশিংটন, এমন ধরনের অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সত্ত্বার ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের মিত্র ও অংশিদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

কার্বি বলেন, “আমরা, উত্তর কোরিয়াকে গোপন সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে রাশিয়াকে সহযোগিতা করতে দেবো না। আর, সাহায্যের প্রতিদান হিসেবে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে যা দেবে তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জানতে হবে।”

উত্তর কোরিয়া শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আগমনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে "একটি স্পষ্ট সামরিক উস্কানি" এবং যুক্তরাষ্ট্র যে তাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছে, তার প্রমান বলে উল্লেখ করেছে। উত্তর কোরিয়া তাদের সম্প্রসারিত পারমাণবিক নীতির আলোকে এর জবাব দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। তাদের এই নীতি অনুমানের ওপর নির্ভর করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন করে।

এর আগেও উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গোলাবারুদ, আর্টিলারি শেল ও রকেট সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি, এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।

XS
SM
MD
LG