অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে নদী-খালের ক্ষতি করা যাবে না: শেখ হাসিনা


পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৬ অক্টোবর, ২০২৩।
পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৬ অক্টোবর, ২০২৩।

উন্নয়ন প্রকল্প যাতে নদী, খাল ও জলাশয়ের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১৬ অক্টোবর) পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদীগুলোর নিরবচ্ছিন্ন পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। সে কথা মাথায় রেখেই আমাদের প্রকল্প ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।” তিনি বলেন, “উন্নয়নের নামে মাঝে মধ্যেই জলাশয় ভরাট হয়ে যেতে দেখা যায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি মনে করি এটা খুবই বোকামি। যখনই কোনো প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়িত হয়, তখনই পানি সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে পদক্ষেপ নিতে হবে।” বর্ষা মৌসুমে পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জলাশয়ের জন্য নিয়মিত মৌলিক ড্রেজিং এবং রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, “কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নদী, খাল, বিল (হ্রদের মতো জলাভূমি) এবং অন্যান্য জলাশয়ের প্রাকৃতিক প্রবাহ যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।” প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে কমপক্ষে একটি জলাধার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ১৬ অক্টোবর, ২০২৩।
প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ১৬ অক্টোবর, ২০২৩।

পানিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “সকল জলাশয়কে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতি তার নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হবে এবং সেই প্রবাহের সঙ্গে চলতে থাকা সম্পদ সংরক্ষণে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এ সময় শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আগামী সাধারণ নির্বাচনে তার দল জয়ী হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক সুবিধা যুক্ত করে এর মান উন্নীত করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, “আমাদের ডাক্তার, নার্স ও দক্ষ জনবল দরকার; আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল বরাদ্দ করেছি। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য সরকার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “...কিন্তু করোনা মহামারী মোকাবেলা এবং ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিশাল ব্যয়ের কারণে আমরা আগে অনেক কিছু করতে পারিনি।” কোভিড-১৯ মোকাবেলায় টিকাদান কর্মসূচির জন্য সরকারের বিভিন্ন ব্যয বর্ণনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি; যদিও বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ এতে মারা গেছে; আর মৃতদের মধ্যে অনেক ধনী ব্যক্তিও ছিলেন। এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।”

XS
SM
MD
LG