অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা সক্রিয়, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই—পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। ৩০ নভেম্বর, ২০২৩।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। ৩০ নভেম্বর, ২০২৩।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম অন অ্যাডভান্সিং ওয়ার্কার এমপাওয়ারমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড হাই লেবার স্ট্যান্ডার্ডস গ্লোবালি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ বাংলাদেশি পণ্যগুলো তার গুণমান, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার পায়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা খুবই স্মার্ট ও সক্রিয়। আমাদের গতিশীল বেসরকারি খাতের ওপর আমার আস্থা আছে। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।”

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির একটি প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের বেসরকারি খাত তৈরি পোশাক রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত বাংলাদেশি পণ্য কেনে। তারা আমাদের পণ্য কেনে কারণ আমাদের পণ্যগুলো উচ্চ মানসম্পন্ন, দামে সস্তা ও সময়মতো পৌঁছে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, এমনকি আপনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টোরগুলোতে অনেক চীনা পণ্যও পাবেন।

আব্দুল মোমেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র পুরো শ্রম খাতের জন্য উদ্যোগ নিলে তারা অবশ্যই স্বাগত জানাবেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, “তারা যদি একটি ভালো নীতি গ্রহণ করে তাহলে সেটা হবে একটি মহৎ উদ্যোগ। আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ধনী দেশ হওয়ায় জলবায়ু ও অভিবাসন বিষয়ে ভালো উদ্যোগ নেবে।”

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিবাচক কর্মসূচি নিয়ে আসে, আমরা অবশ্যই এটাকে স্বাগত জানাব। বাংলাদেশ দেখতে চায় সব শ্রমিক ভালোভাবে জীবনযাপন করছে।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দেওয়া চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন জানান, তিনি চিঠির বিষয়ে জানেন না।

কিছু লোকের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো প্রচেষ্টা বাংলাদেশ দেখতে চায় না।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, (রাষ্ট্রদূত) ছুটি থেকে ফেরার পর এটি রুটিন বৈঠক।

তিনি বলেন, “আমরা খুশি যে তিনি ফিরে এসেছেন। নতুন কিছু নয়। শুধু রুটিন মিটিং।”

রাষ্ট্রদূত হাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মোমেনের আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

সকালে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১টায় বৈঠক শুরু হয়ে ৩০ মিনিট চলে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রদূত হাস ও পররাষ্ট্রসচিব মোমেন একটি রুটিন বৈঠক করেছেন।

পিটার হাস ও মাসুদ বিন মোমেন বৈঠকস্থলের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ছুটি কাটিয়ে সোমবার ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অধিকার নীতিতে ‘শঙ্কিত হওয়ার’ কারণ রয়েছে—বাংলাদেশ দূতাবাস

এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বলেছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেমোরেন্ডাম অন অ্যাডভান্সিং ওয়ার্কার এমপাওয়ারমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড হাই লেবার স্ট্যান্ডার্ডস গ্লোবালি শিরোনামের স্মারকলিপি নিয়ে বাংলাদেশের ‘শঙ্কিত হওয়ার’ অনেক কারণ রয়েছে।

সম্প্রতি চালু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দূতাবাস এক চিঠিতে জানিয়েছে, “স্মারকলিপিতে শ্রম অধিকার সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার পেছনে রাজনীতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে রাজনৈতিক অভিপ্রায়ে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্মারকলিপিটি ১৬ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যারা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের, শ্রম অধিকার রক্ষাকারী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে হুমকি দেয়, ভয় দেখায় এবং হামলা করে তাদের জবাবদিহি করা হবে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য জরিমানা ও ভিসা বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপগুলো কার্যকর করতে তারা কাজ করবে।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে ‘স্মারকলিপিটি’ বাংলাদেশের জন্য একটি সংকেত। কারণ শ্রম সমস্যার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এতে বর্ণিত যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে। “স্মারকলিপিটি বাংলাদেশের পোশাক খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত।”

XS
SM
MD
LG